নিজস্ব প্রতিনিধি: একদিকে চলছে দুর্গাপুজোর উৎসব, অন্যদিকে নবরাত্রি, সুতরাং দেশজুড়ে উৎসবের মরসুম। ঠিক এমন সময়েই শিল্পপতি রতন টাটার মৃত্যুর খবর রীতিমতো গোটা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছে। তরুণ থেকে প্রবীণ সকলেই শিল্প টাইকুনের মৃত্যুতে ক্ষত বিক্ষত। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। দিন কয়েক আগেই গুজব উঠেছিল যে, আচমকাই অসুস্থ হয়ে মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালের ভর্তি হয়েছেন। যদিও পরে শোনা যায়, বিষয়টি গুজব ছিল। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি অসুস্থ ছিলেন। তাঁর মোট সম্পত্তি প্রায় ৩,৮০০ কোটি টাকার। শুধু একজন বিজনেস টাইকুন নয়, তিনি একজন জনহিতৈষী নায়ক ছিলেন।তাঁর মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন বিনোদন তারকারা ও। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি অবিবাহিত। এসেছিল অনেক রমণী তাঁর জীবনে, কিন্তু বিয়ে পর্যন্ত কিছুই গড়ায়নি। বিজনেস টাইকুন এবং বিলিয়নিয়ার রতন টাটার আকস্মিক মৃত্যুতে তাঁকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন সর্বস্তরের মানুষ। তার প্রয়াণে এমন এক শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে যা কখনও পূরণ হওয়ার নয়।
রতন টাটা সারা জীবন উৎসর্গ করেছেন দেশের জন্য। রতন টাটা, যিনি একটি সাধারণ জীবনযাপন করতেন, তিনি অত্যন্ত উদার ছিলেন এবং কোটি কোটি মানুষের অনুপ্রেরণা ছিলেন। কিন্তু তিনি সারা জীবন একাকীত্বের শিকার ছিলেন। রতন টাটা কখনও বিয়ে করেননি বা সন্তানও নেই তাঁর। তবে, তিনি অবশ্যই প্রেমে পড়েছিলেন। এই বিষয়ে একবার অভিনেত্রী সিমি গ্রেওয়ালকে তার টকশোতে বিয়ে, সন্তান এবং জীবনের শূন্যতা সম্পর্কে বলেছিলেন। রতন টাটা সিমি গ্রেওয়ালের সঙ্গেও একবার ডেট করেছিলেন। বিষয়টি সিমি নিজেই ২০১১ সালে একটি সাক্ষাৎকারে প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু কিছু সময়ের পরে তাদের সম্পর্ক ভেঙে যায়। যদিও বিচ্ছেদের পরেও তাঁরা ভাল বন্ধু ছিলেন। কিন্তু রতন টাটা কেন বিয়ে করেননি তা নিয়ে রতন টাটা বলেন, ‘অনেক ঘটনা ঘটেছে যা আমাকে বিয়ে করা থেকে বিরত রেখেছে। টাইমিং ঠিক ছিল না তারপর কাজে এতটাই ব্যস্ত হয়ে পড়লাম যে সময় পাইনি। অনেকবার বিয়ে করার কাছাকাছি এসেছি, কিন্তু কাজ হয়নি।’
তিনি চারবার প্রেমে পড়েছিলেন এবং বিষয়টি বিয়ের পর্যায়ে পৌঁছেছিল, তবে কোনও কারণে জিনিসগুলি কেটে যায়। তিনি আরও বলেন, ‘অনেক সময় এমন হয় যে, স্ত্রী বা সংসার না থাকার কারণে আমি একাকী বোধ করি। মাঝে মাঝে আমি এটার জন্য আকুল হয়ে থাকি। যাইহোক, আমি কখনও কখনও অন্য কারও অনুভূতি বা অন্য কারও উদ্বেগ নিয়ে চিন্তা না করার স্বাধীনতা উপভোগ করি।’ একই সময়ে, রতন টাটা একবার ‘হিউম্যানস অফ বোম্বে’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তাঁর প্রথম প্রেমের কথা বলেছিলেন। জানান, ‘আমি লস অ্যাঞ্জেলেসে ছিলাম। আমি প্রেমে পড়েছিলাম এবং প্রায় বিয়ে করতে যাচ্ছিলাম। কিন্তু একই সময়ে, আমি ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, বাড়িতে। কারণ আমি প্রায় সাত বছর আমার দাদির কাছ থেকে দূরে ছিলাম। আমার দাদি ভালো ছিলেন না। তাই আমি তার সঙ্গে দেখা করতে ফিরে আসি দেশে। ভেবেছিলাম যে আমি যাকে বিয়ে করতে চাই সে আমার সঙ্গে ভারতে আসবে। কিন্তু ১৯৬২ সালের ভারত-চীন যুদ্ধের কারণে তার বাবা-মা এই পদক্ষেপে রাজি হননি এবং সম্পর্ক শেষ হয়ে যায়।’ রতন টাটা ৯ অক্টোবর রাত ১১ টায় মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে মারা যান। রতন টাটা আইসিইউতে ভর্তি ছিলেন এবং বয়সজনিত রোগে ভুগছিলেন।