নিজস্ব প্রতিনিধি: আরজি করে তরুণী চিকিৎসকের মৃত্যু নিয়ে গোটা রাজ্য তো বটেই, উত্তাল গোটা দেশও। জায়গায় জায়গায় রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন যুবসমাজ। রাজ্য তো বটেই দেশের অধিকাংশ হাসপাতালের চিকিৎসকেরা ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন। তরুণী চিকিৎসককে নৃশংসভাবে খুন করার অভিযোগে গোটা রাজ্য রীতিমতো ক্ষেপে উঠেছে। যতক্ষণ না অপরাধীর শাস্তি হচ্ছে, ততক্ষণ আন্দোলন থামাতে রাজী নন কেউই। যাই হোক, এই বিয়ে রীতিমতো অগ্নিগর্ভ কলকাতার পরিস্থিতি। ইতিমধ্যেই সিবিআই ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে আরজি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষকে। এমন অবস্থায় তরুণী চিকিৎসক খুনের অপরাধীদের শাস্তির দাবিতে মাঠে নেমেছেন টলিউড তারকারাও। ইতিমধ্যেই শঙ্খ বাজিয়ে জানান দিয়েছেন আন্দোলনকারীদের পাশে আছেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। এছাড়াও চোখে জল এনে প্রতিবাদে সামিল হয়েছেন অভিনেত্রী-সাংসদ রচনা বন্দোপাধ্যায়।
তবে এই নিয়েই সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রোলডও হচ্ছেন দুই অভিনেত্রী। বিশেষ করে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তর ফেক শঙ্খ বাজানো নিয়ে রীতিমতো সরগরম নেটপাড়া। এই মূহুর্তে সহকর্মীর পাশে দাঁড়ালেন রচনা বন্দোপাধ্যায়। শুধু তাই নয়, আর জি কর কাণ্ড নিয়ে বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও। এরপর থেকেই তাঁকে ঘিরেও কটাক্ষ, ব্যাঙ্গ বিদ্রুপের শেষ নেই। এবার কড়া ভাষারমস্ত ট্রোলের জবাব দিলেন ‘দিদি নম্বর ১’। আর জি কর কাণ্ডের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে রচনা বলেছিলেন, ‘স্বাধীনতা দিবসে দেশ স্বাধীন হলেও আমরা কতটা স্বাধীন হয়েছি? দিল্লি, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ, মণিপুর – একটার পর একটা ঘটনা। আমরা কবে স্বাধীনভাবে ঘুরতে পারব, সেটাই প্রশ্ন। আর জি করের ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। দিনের শেষে কাজ করে গাড়ি করে ফিরি, সব মানুষ তা পান না। মহিলা হেঁটে, বাসে ঝুলতে ঝুলতে বাড়ি ফেরেন। পুরুষ মানুষ আমাকে দেখলে সম্মান করবে, বাঁচানোর চেষ্টা করবে, বিপদে পড়লে হাত ধরে বাড়ি পৌঁছে দেবে। এরকম সমাজ কবে পাব?’
আর অভিনেত্রীর এই ভিডিও নিয়েও নেটপাড়ায় হাসির ফোয়ারা উঠেছে। এবার এই ট্রোলিংয়ের উত্তর দিলেন রচনা। চুঁচুড়ায় তৃণমূলের প্রতিবাদ মিছিলে গিয়ে বলেন, তৃণমূলের সঙ্গে যাত্রা শুরু হওয়ার পর থেকে ট্রোল হচ্ছেন তিনি। এতে তাঁর কিছু যায় আসে না। কিন্তু ভিডিওটা মন থেকে করেছিলাম বলে পোস্ট করেছেন। শিল্পী মানুষদের মানুষজন অনেক রকম ভাবে ট্রোল করে, চোখের জল কে ভাবে গ্লিসারিন। অনেকে ঋতুপর্ণা শঙ্খ বাজানোটাকেও ট্রোল করছে। বাংলার এই নিন্দনীয় পরিস্থিতিতে মানুষ কাউকে ট্রোল করতে ছাড়ছে না। যে আজকে ভিক্টিম, যার সঙ্গে এরকম ঘটনা ঘটেছে, তার সম্পর্কে কিছু বলবে, তার পাশে যাবে, তা না করে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় কখন চোখের জল ফেলল, রচনার চোখে কাজল আছে কিনা, এই নিয়ে মানুষ হাসি ঠাট্টা শুরু করেছে। তবে এগুলোকে তিনি কখনই গুরুত্ব দেন না।