নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: হত্যা চেষ্টার অভিযোগের অছিলায় ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় নায়িকা নুসরাত ফারিয়ার গ্রেফতারি নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বড় পর্দায় দেশত্যাগী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চরিত্রে অভিনয় করা নুসরাতের গ্রেফতারি নিয়ে মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারকে তুলোধনা করেছেন ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান। জনপ্রিয় অভিনেত্রীকে গ্রেফতার নিয়ে ফেসবুকে এক পোস্টে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তদারকি সরকারের সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সারোয়ার ফারুকী।
সামাজিক যোগাযোগমাধধ্যম ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে বার্গম্যান লিখেছেন, ‘প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চরিত্রে অভিনয় করা নুসরাত ফারিয়ার গ্রেফতার গভীর উদ্বেগজনক। বদলে যাওয়া বাংলাদেশ এখন এমন এক পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে যেখানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সমর্থক হওয়া কিংবা দলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ থাকটাই কাউকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করার জন্য যথেষ্ট। বাংলাদেশ এমন ব্যক্তিরা এখন আর নিজেদের নিরাপদ ভাবতে পারছেন না। কারণ, ভিত্তিহীন অভিযোগে যে কোনও সময় গ্রেফতারের আশঙ্কা বাস্তব হয়ে উঠেছে।’ আওয়ামী লীগ জমানায় মানবাধিকার নিয়ে গগলার শিরা ফোলানো বদিউল আলম মজুমদার, ইফখেতারুজ্জামান, দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের মতো মার্কিন দালাল বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি লিখেছেন, ‘দেশের নতুন তথাকথিত ‘সিভিল সোসাইটি’ এখন আর সুবিচার বা ন্যায্য প্রক্রিয়া নিয়ে মাথা ঘামায় না। তারা প্রতিশোধ নেওয়ার মনোভাবেই ব্যস্ত। মৌলিক মানবাধিকার রক্ষার জন্য আর কোনও বড় রাজনৈতিক শক্তিও অবশিষ্ট নেই। ফারিয়ার গগ্রেফতার কোনও মতেই ন্যায়বিচার নয়। দায়বদ্ধতার পোশাক পরে হাজির হওয়া প্রতিশোধ। এটি আইনের শাসনে বিশ্বাসী যে কোনও মানুষের জন্যই ভয়াবহ সঙ্কেত, তারা রাজনৈতিকভাবে যেখানেই অবস্থান করুন না কেন।’
পর্দার ‘শেখ হাসিনা’ নুসরাত ফারিয়ার গ্রেফতারি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ইউনূস সরকারের সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সারোয়ার ফারুকীও। সোমবার (১৯ মে) বেলা ১১টা ১২ মিনিটে ফেসবুকে দেওয়া স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, ‘আমি সাধারনত চেষ্টা করি আমার মন্ত্রকেরর কাজের বাইরে কথা না বলতে। কিন্তু আমার তো একটা পরিচয় আছে, আমি চলচ্চিত্র শিল্পেরই মানুষ ছিলাম এবং দুই দিন পর সেখানেই ফিরে যাব। নুসরাত ফারিয়ার গ্রেফতার বিব্রতকর একটা ঘটনা হয়ে থাকল আমাদের জন্য। আমাদের সরকারের কাজ জুলাইয়ের প্রকৃত অপরাধীদের বিচার করা। ঢালাও মামলার ক্ষেত্রে আমাদের পরিষ্কার অবস্থান প্রাথমিক তদন্তে সংশ্লিষ্টতা না থাকলে কাউকে গ্রেফতার করা হবে না। এবং সেই নীতিই অনুসরণ করা হচ্ছিল।
ফারিয়ার বিরুদ্ধে এই মামলা তো অনেকদিন ধরেই ছিল। সরকারের পক্ষ থেকে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে গ্রেফতারের কোনও উদ্যোগ নেওয়ার বিষয় আমার নজরে আসেনি। কিন্তু বিমানবন্দরে যাওয়ার পরেই এই ঘটনা ঘটল। আওয়ামী লীগের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের বিদেশে যাওয়াকে কেন্দ্র করে ক্ষোভের পর ওভার নারভাসনেস থেকেই হয়তোবা এইসব ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
কয়দিন আগে ব্যারিস্টার আন্দালিব পার্থের স্ত্রীর সঙ্গেও এরকম একটা ঘটনা ঘটেছে। এইসব ঘটনা কোনও ভাবেই সমর্থনযোগ্য না। আমি বিশ্বাস করি ফারিয়া আইনি প্রতিকার পাবে। এবং এই ধরনের ঢালাও মামলাকে আমরা আরও সংবেদনশীলভাবে হ্যান্ডেল করতে পারব—এই আশা। আমাদের মনে রাখতে হবে আমাদের প্রধান কাজ জুলাইয়ের প্রকৃত অপরাধীদের বিচার করা।’
উল্লেখ্য, গতকাল রবিবার (১৮ মে) থাইল্যান্ড যাওয়ার পথে ঢাকা বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হয় ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় নায়িকা নুসরাত ফারিয়াকে। ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলমের সঙ্গে রাত কাটানোর প্রস্তাব প্রত্যাখান করাতেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। রাতভর ঢাকা গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে জেরা করা হয় তাঁকে। সোমবার আদালতে হাজির করা হলে বিচারক চার দিনের জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।