নিজস্ব প্রতিনিধি: রান্নাঘরের রানী সুদীপা চট্টোপাধ্যায়, একাধারে রেস্তরাঁর কাজ, বুটিক, ব্যবসা সবটাই একসঙ্গে সামলাচ্ছেন। মাঝে মধ্যে বিতর্কের মুখে পড়েন ঠিকই, কিন্তু অন্যদের প্রতিবাদ করতেই ছাড়েন না। সুদীপা চট্টোপাধ্যায়, টলিউডের একজন অতি চেনা মুখ। সেই সুবাদে সুদীপার বাড়ির দুর্গাপুজোও বেশ নামকরা। হাতে গুনে আর ২ দিন বাকি, সোমবার পড়তেই চারিদিকে পুজো পুজো মরসুম। যদিও ইতিমধ্যেই কলকাতার সব বড় বড় প্যান্ডেলগুলির উদ্বোধন সেরেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একদিকে যেমন আরজি কর-কাণ্ডের প্রতিবাদ চলছে, অন্যদিকে হইহই করে পুজোর প্ল্যানিং সারছেন তারকারা। তবে সুদীপার এবার ভারী মন খারাপ, কারণটা তিন আগেভাগেই বলে দিয়েছিলেন।
বাড়ির দুর্গাপুজোতেও তেমন আয়োজন করবেন না। প্রতিবারই সুদীপার শ্বশুরবাড়ির দুর্গাপুজোতে অংশ নেন টলিউড তারকারা। কিন্তু এবার তিনি দুর্গাপুজো নমো নমো করেই সারবেন। বছরের শুরুতেই মাকে হারিয়েছেন অভিনেত্রী-সঞ্চালিকা, সঙ্গে একের পর এক কঠিন সময়। তাই মনটা স্বাভাবিকভাবেই ভাল নেই সুদীপার। কিন্তু তাই বলে ঘরের মেয়ে উমার আগমনী উদযাপন করবেন না, তা কখনও হয়!
স্বল্প পরিসরেই পুজো করবেন সুদীপা এবং অগ্নিদেব চট্টোপাধ্যায়। বিগত নয় বছর ধরে সুদীপার বালিগঞ্জের শ্বশুরবাড়িতে মহা সমারোহে দুর্গাপুজো হয়ে আসছে। ষষ্ঠী থেকে সপ্তমী তারকাদের ভীড় লেগেই থাকে। কিন্তু এবার ছোটখাটো ভাবেই পুজোর আয়োজন করবেন তারকা দম্পতি। কোনওরকম ত্রুটি না রাখলেও হইহুল্লোড়টা হচ্ছে না। তবে প্রতিবারের মতো মাতৃ আরাধনা হবে। সুদীপার ঠাকুর দালানে উমা সাজবেন সোনার গয়নাতে। মায়ের মাথার মুকুট থেকে পা পর্যন্ত সমস্ত গয়নাই সোনার হলেও মায়ের হাতের সব অস্ত্র রূপোর গড়ানো।পঞ্চমীর দিন সুদীপা-অগ্নিদেবের বাড়িতে উমা আসেন। লাল পাড় সাদা শাড়ি পরে মাকে বরন করেন অভিনেত্রী। এটাই তাদের বাড়ির নিয়ম। এছাড়াও সুদীপার বাড়ির পুজোয় মায়ের ভোগও হয় বেশ অভিনব। কারণ তাঁদের বাড়ির দুর্গাকে মাছ-মাংস ভোগ দেওয়া হয়।
এছাড়াও একেক দিন একেকরকম চাল দিয়ে ভোগ দেওয়া হয়, চাল আসে বাংলাদেশ থেকে। অষ্টমীর সন্ধিপুজোর পর মাছ-মাংসের ভোগ দেওয়া হয়। নবমীতে মা দুর্গার ভোগে থাকে পদ্মার ইলিশ আর দশমীর দিন গঙ্গার ইলিশ খেয়ে বিসর্জনের পথে এগিয়ে যান মা।