নিজস্ব প্রতিনিধি, লখনউ: সীমান্তে ভারত পাকিস্তান উত্তেজনা বর্তমান। তার মধ্যেই হল ব্রহ্মসের নতুন ইউনিটের উদ্বোধন। উত্তরপ্রদেশের লখনউতে প্রতিরক্ষা শিল্প করিডোরে ব্রহ্মোস সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল উৎপাদন ইউনিটের উদ্বোধন করলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। সঙ্গে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। উদ্বোধনী মঞ্চ থেকেই যোগী নিশ্চিত করলেন অপারেশন সিঁদুরে ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল।
যোগী বলেন যে অপারেশন সিঁদুরের সময় ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রের শক্তি স্পষ্ট ছিল। তিনি আরও বলেন যে যদি কেউ এই ক্ষেপণাস্ত্রটি সম্পর্কে না জেনে থাকেন তাহলে তারা পাকিস্তানকে এর প্রভাব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে পারে। যোগী আদিত্যনাথের কণ্ঠে শোনা গিয়েছে সন্ত্রাসবাদ বিরোধী কথাও। তিনি বলেন, “সন্ত্রাসবাদ হল কুকুরের লেজের মতো, কখনও সোজা হয় না। তাই সন্ত্রাস যে ভাষা বোঝে তাতেই এর মোকাবেলা করতে হবে।”
যোগী আদিত্যনাথ জানিয়েছেন উত্তরপ্রদেশে রাজ্য সরকার ব্রহ্মস প্রকল্পের জন্য ২০০ একর জমি বরাদ্দ করেছে। শীঘ্রই উত্তরপ্রদেশে এই ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কাজ শুরু হবে।
তাঁর কথায়, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঘোষণা করেছেন যে ভবিষ্যতে যে কোনো সন্ত্রাসী কীর্তিকলাপকে যুদ্ধের পদক্ষেপ বলে বিবেচনা করা হবে। সন্ত্রাসবাদের সমস্যা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস না করা পর্যন্ত সমাধান করা যাবে না। সন্ত্রাসবাদকে ধ্বংস করতে হলে, আমাদের সকলকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে একইসঙ্গে লড়াই করতে হবে।”
ব্রহ্মসের নতুন ইউনিটের উদ্বোধনে এসে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেন, শত্রুকে বড় সড় আঘাত করতে সক্ষম ব্রহ্মস। যে কোনও পরিস্থিতির জন্য তৈরি দেশ। পোখরানে চলছে পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা। দেশের নিরাপত্তায় ইউপি ডিফেন্স গুরুত্বপূর্ণ।”
প্রসঙ্গত, ব্রহ্মস সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল। শব্দের থেকে তিন গুন বেশি গতিতে ছোটে। ২৯০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।
২২শে এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগামে সন্ত্রাসীদের হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার প্রতিশোধ হিসেবে অপারেশন সিন্দুর চালানো হয়। ভারত এই অভিযান চালিয়ে পাকিস্তান এবং পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে অবস্থিত জইশ-ই-মহম্মদ (জেইএম) এবং লস্কর-ই-তৈবা (এলইটি) এর গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিগুলিকে ধ্বংস করে।