নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের মন্তব্যে চটেছে মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার। আজ সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ বিদেশ মন্ত্রকের তরফে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের উপরাষ্ট্রদূত প্রভন বাধের কাছে এ বিষয়ে এক প্রতিবাদ পত্র পাঠানো হয়েছে। ওই প্রতিবাদপত্রে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্যকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। পাশাপাশি ভারতের রাজনৈতিক নেতাদের এই ধরনের আপত্তিকর এবং অগ্রহণযোগ্য মন্তব্য থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়ার জন্য ভারত সরকারের কাছে দাবি জানানো হয়েছে।’
ঘটনার সূত্রপাত ঝাড়খণ্ডে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের এক রাজনৈতিক সভায় করা মন্তব্য ঘিরে। গত শুক্রবার ঝাড়খন্ডের সাহেবগঞ্জ জেলায় বিজেপি আয়োজিত ‘পরিবর্তন যাত্রা’ নামে এক কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সেকেন্ড ইন কম্যান্ড অমিত শাহ। ওই কর্মসূচিতে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের উদ্দেশ্যে হুমকি দেন। হুঙ্কার ছেড়ে শাহ বলেন, ‘ঝাড়খণ্ডে বিজেপি সরকার গঠন করতে পারলে প্রত্যেক বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে খুঁজে বের করে উল্টো ঝুলিয়ে রাখা হবে।’
ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ওই মন্তব্য সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত হওয়ার পরেই শোরগোল পড়ে যায়। নড়েচড়ে বসে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভায় যোগ দিতে যাওয়ার আগেই বিদেশ মন্ত্রককে এ বিষয়ে দিল্লিকে কড়া প্রতিবাদ পত্র পাঠানোর নির্দেশ দেন বাংলাদেশ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূস। আর সেই নির্দেশ পাওয়ার পরেই বাংলাদেশ বিদেশ মন্ত্রকের তরফে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্য নিয়ে কড়া চিঠি তৈরি করা হয়। ভারতের ডেপুটি কমিশনারের কাছে পাঠানো ওই চিঠিতে অবৈধ বাংলাদেশিদের নিয়ে অমিত শাহের মন্তব্যকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করা হয়। ভবিষ্যতে এই ধরনের ‘আলটপকা’ মন্তব্য না করার জন্যও সতর্ক করে দেওয়া হয়। চিঠিতে বলা হয়, ‘প্রতিবেশি দেশের দায়িত্বশীল মন্ত্রীদের থেকে আসা এই ধরনের মন্তব্য দুটি বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বোঝাপড়ার মনোভাবকে ক্ষুণ্ন করে। সে দেশের রাজনৈতিক নেতারা যাতে এই ধরনের আপত্তিকর এবং অগ্রহণযোগ্য মন্তব্য না করেন সে বিষয়ে ভারত সরকারের নজর রাখার প্রয়োজন।’