নিজস্ব প্রতিনিধি, রাঁচি: মর্মান্তিক ঘটনা ঘটল ঝাড়খণ্ডের দুমকা জেলায়। নদীতে স্নান করার সময় জলে ডুবে একই সঙ্গে মৃত্যু হয়েছে দুই মামাতো বোনের। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। তারাই দেহ দুটি ময়না তদন্তের জন্য পাঠায়। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে জানা গিয়েছে জলে ডুবেই মৃত্যু হয়েছে দুই মাসতুতো বোনের। তবে ময়না তদন্তের রিপোর্ট আসার পর পরিস্থিতি স্পষ্ট হবে।
নিহতদের নাম পূজা গোরাই (১৬) ও উমা কুমারী (১৯)। শুক্রবার দুমকার গন্ডারকপুর গ্রামে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। আচমকা দুই কিশোরীর মৃত্যুতে গ্রামে নেমে আসে শোকের ছায়া। প্রচন্ড গরম থেকে মুক্তি পেতে গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ময়ূরাক্ষী নদীর বাঁধে স্নান করতে গিয়েছিল পূজা, উমা ও আভা।
স্নান করার সময় আচমকা ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে তিনজনই। ফলে নদী যেখানে গভীর সেখানে ডুবে যায়। আশপাশের লোকজন কিছু বোঝার আগেই দুর্ঘটনা ঘটে যায়। যখন গ্রামবাসীরা বিষয়টি বুঝতে পারে তৎক্ষণাৎ তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে জানান পূজা ও উমার মৃত্যু হয়েছে। আভা কোনও রকমে রক্ষা পেয়েছে।
দুই কিশোরীই ছিল সম্পর্কে তুতো বোন। উমা কুমারীর মা জামশেদপুরের একজন সরকারি শিক্ষিকা। উমা জামশেদপুরের একটি কলেজে স্নাতক স্তরের ছাত্রী ছিল। মা বাবা গ্যাংটক ঘুরতে যাওয়ায় গ্রীষ্মের ছুটিতে সে দুমকার গন্ডারকপুর গ্রামে মাসির বাড়িতে আসে।
শুক্রবার বাড়ি থেকে অল্প দূরে ময়ূরাক্ষী নদীর উপর বাহরাকুন্ডি বাঁধে মাসির মেয়ে পূজা কুমারী এবং মামার মেয়ে আস্থা কুমারীর সঙ্গে স্নান করতে গিয়েছিল সে। সেই সময় আচমকা পা পিছলে গভীর জলে পড়ে যায় তিন জনেই। অনেক চেষ্টা করেও যখন উমা আর পূজাকে জল থেকে তুলতে পারেনি আস্থা, তখন সে ছুটে যায় গ্রামে। সেখানে গিয়ে সব কথা জানায়। গ্রামবাসীরা এসে জল থেকে দুই বোনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিতসক মৃত ঘোষণা করে।
পূজা স্কুলে পড়ছিল, এবছর মাধ্যমিক দিয়েছিল। পরিবারের দুই মেয়ের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে ভাষা হারিয়েছেন সকলে। শোকে হাহাকার করা ছাড়া আজ আর তাঁদের কিছুই করার নেই। গরমকালে গ্রামের দিকে নদী, পুকুরে স্নান করতে যান অনেকেই। এই ঘটনা আবার যেন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল জলাশয়ে নেমে স্নানের সময় অবশ্যই সতর্ক থাকা প্রয়োজন। প্রশাসন থেকেও এই ব্যাপারে সব সময় সচেতন করা হয়।