নিজস্ব প্রতিনিধি, কটক: ফের শিরোনামে ওড়িশা। মঙ্গলবার পুলিশ জানিয়েছে ওড়িশার কেন্দ্রপাড়া জেলার একটি গ্রামে এক ১৫ বছর বয়সী কিশোরীর উপর ৫ জন মিলে গনধর্ষণ চালিয়ে। অভিযুক্ত পাঁচ জনের মধ্যে এক জন কিশোরীর আত্মীয়। পাঁচ অভিযুক্তকেই আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। দশম শ্রেণির ওই ছাত্রী সোমবার রাজনগর থানায় অভিযোগ দায়ের করে।
অভিযোগে সে জানায় ৯ অগস্ট রাখীবন্ধন উৎসবের দিন নাবালিকার এক আত্মীয় তাদের বাড়িতে আসে। তারপর কথায় কথায় ভুলিয়ে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণ করে। একটি মন্দিরে নিয়ে যাওয়ার নাম করে কিশোরীকে ওই নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। নাবালিকা অভিযোগে আরও জানিয়েছে যে ধর্ষণস্থলে আগে থেকে দাঁড়িয়ে ছিল চারজন। তারাও কিশোরীর আত্মীয়র সঙ্গে মিলে তাকে ধর্ষণ করে।
পুলিশ আধিকারিকরা বলছেন সম্ভবত ধর্ষণ পূর্ব পরিকল্পিত ছিল। তা না হলে ওই চার জনের জানার কথা নয় যে নাবালিকাকে নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হবে। তারা জানত বলেই আগে থেকে শিকার আসার অপেক্ষা করছিল। সম্ভবত, কিশোরীর আত্মীয়ই এই ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী। গণধর্ষণের পর অভিযুক্তরা নাবালিকাকে ভয় দেখায় যে যদি সে এই ধর্ষণের কথা পরিবারের কাউকে জানায়, তাহলে তাকে ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে। পাঁচজন অভিযুক্তকেই আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অভিযোগকারী এবং অভিযুক্তদের ডাক্তারি পরীক্ষা করা হবে। তদন্ত করে সমস্ত বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ওড়িশায় নারী সুরক্ষা একেবারে তলানিতে এসে ঠেকেছে। জুনের মাঝামাঝি থেকে ওড়িশা রাজ্য জুড়ে ধর্ষণের বেশ কয়েকটি ঘটনা সামনে এসেছে। তার মধ্যে কিছু আবার গণধর্ষণ।২৮ জুন গঞ্জাম জেলায় এক দূর সম্পর্কের আত্মীয় কর্তৃক সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রী ধর্ষিত হয়েছে। ২২ বছর বয়সী অভিযুক্তকে পরে গ্রেফতার করা হয়। ২৫ জুন, গঞ্জাম জেলায় এক ক্লিনিক মালিক কর্তৃক ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। পৃথক একটি ঘটনায়, ময়ূরভঞ্জ জেলার একটি স্থানীয় মন্দির থেকে বাড়ি ফেরার সময় এক তরুণীকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছিল।
১৯ জুন ময়ূরভঞ্জ জেলায় ৩১ বছর বয়সী এক তরুণীকে চারজন মিলে গণধর্ষণ করে। একদিন আগে, কেওনঝড় জেলায় বাড়ির কাছে একটি ধানক্ষেতে গাছ থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীর মৃতদেহ পাওয়া যায়। পরিবারের দাবি, আগের দিন সন্ধ্যা থেকে কিশোরী নিখোঁজ ছিল। পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, মৃত্যুর আগে তাকে যৌন নির্যাতন করা হয়েছিল। ১৫ জুন গোপালপুর সমুদ্র সৈকতে এক কলেজ ছাত্রীকে গণধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনায় ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
দিন কয়েক আগে বালেশ্বরের বিএড কলেজের যে ছাত্রীর কলেজ ক্যাম্পাসে গায়ে আগ্যুন দিয়ে আত্মহননের চেষ্টা করেছিলেন তিনিও বিভাগীয় অধ্যাপকের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছিলেন যৌন হেনস্থার। তিনদিনের যমে মানুষে টানাটানি শেষে গত ১৫ জুলাই ভুবনেশ্বর এইমসে মারা যান ওই ছাত্রী। শরীরের ৯৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল তরুণীর। নারী নির্যাতনের ঘটনায় গত ১৯ জুলাই ফের শিরোনামে এসেছিল ওড়িশা। পুরীতে বছর পনেরোর এক কিশোরীকে আগুনে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করেছিল দুর্বৃত্তরা। কিশোরীটি তার বন্ধুর বাড়ি যাচ্ছিল। সেই সময় বায়াবার গ্রামে তিনজন দুর্বৃত্ত এসে আচমকা মেয়েটির গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। ঘটনার পর তিনজনেই চম্পট দেয়। স্থানীয়রা আগুন নিভিয়ে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যায়। সম্প্রতি ময়ূরভঞ্জ জেলায় এক মাসেরও বেশি সময় ধরে ১১ বছর বয়সী এক নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে তারই জামাইবাবু সহ তিনজনের বিরুদ্ধে।