নিজস্ব প্রতিনিধি: আগামী ১৩ জানুয়ারী থেকে শুরু হচ্ছে মহাকুম্ভ মেলা। প্রতি ১২ বছর অন্তর অন্তর পৌষ পূর্ণিমা তিথিতে উত্তর প্রদেশের প্রয়াগরাজে অনুষ্ঠিত হয় মহাকুম্ভ মেলা। এই মেলার অন্যতম আকর্ষণ হল, নাগা সন্ন্যাসীদের দর্শন। মাথায় লম্বা জটা, সারা গায়ে ভস্ম। এ সময়েই একমাত্র তাঁরা দর্শন দেন। বাকী সময়টা সাধনা-ধ্যান করেই কাটিয়ে দেন তাঁরা। পাশাপাশি গোটা দেশের হরেক রকমের সাধু-সন্ন্যাসীরাও দর্শন দেন এখানে। যাঁদের দেখতে ভিড় জমান সাধারণ মানুষরা। কথিত আছে, নাগা সন্ন্যাসীরা বছরের বাকি সময়টা গভীর জঙ্গলে বা পাহাড়ে আত্মগোপন করে থাকেন। যাই হোক না কেন, ১৩ জানুয়ারি শুরু কুম্ভমেলা। শুরু হয়ে গিয়েছে এর জোর প্রস্তুতি। নানা আখড়াতে বিভিন্ন অবতারের সাধুরা ভিড় জমাচ্ছেন। কিছুদিন আগে এক হাত উঁচু বাবার দেখা মিলেছিল। যিনি টানা ১৪ বছর ধরে একই ভাবে হাত উঁচু করে আছেন। যার ফলে তাঁর ডান হাত অসাড় হয়ে গিয়েছে। কুম্ভমেলার গৌরব হল ১৩ টি আখড়া। সাধু সন্ন্যাসীরা প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে কুম্ভমেলা রূপ নেয়। সাধুদের অনেক রূপ এই মেলায় দৃশ্যমান। এবার কুম্ভ মেলায় দর্শন মিলল ঘোড়া-সহ এক বাবার।
অদ্ভুত সাধুদের আগমনের কারণে কুম্ভমেলায় দর্শনার্থী দের ভিড় জমে। এখন আবার ঋষি-সাধুরাও আধুনিক যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে যানবাহনের প্রতি অনুরাগী হয়ে উঠছেন। হ্যাঁ, কুম্ভমেলাতে দামি গাড়ি, দামি চশমা আর দামি মোবাইল ফোনও দেখা যাচ্ছে সাধুদের হাতে। কিন্তু অনেক সাধু-ঋষি এমনও আছেন যারা এখনও ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে অনুসরণ করে চলছেন। এমনই একজন বাবা হলেন বিজয় পুরী, যিনি তাঁর ঐতিহ্য অনুসরণ করছেন। বাবা বিজয় পুরী এখনও ঘোড়ায় চড়ে ঘুরে বেড়ান। আর এবার কুম্ভ মেলায় তাঁকে দেখতেই ভিড় জমাচ্ছেন দর্শনার্থীরা। প্রয়াগরাজের সঙ্গমের বালুচরে আয়োজিত এই বৃহত্তম অনুষ্ঠানে সাধু বাবাদের উপস্থিতি এবং আচার-অনুষ্ঠান মহাকুম্ভকে আরও বিশেষ করে তুলছে।
বিভিন্ন বাবা এবং সাধুরা তাদের জমকালো পোশাক এবং ধর্মীয় অলঙ্কার নিয়ে এই মেলায় অংশগ্রহণ করতে আসেন, যা শুধুমাত্র ধর্মীয় তাৎপর্যই ধারণ করে না বরং একটি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিনিধিত্বও করে। তবে বাবা পুরী তার ঘোড়া রাইডের কারণেই লোকজনকে তার দিকে তাকাতে বাধ্য করেছেন। বাবা বিজয়পুরী ঘোড়ায় দ্রুত সওয়ার করতে পারেন, চোখের পলকেই অনেক দূরে চলে যান। এদিকে অনেক বাবা বিলাসবহুল গাড়িতেও মহাকুম্ভে পৌঁছেছেন। বিজয় পুরী বাবা জানিয়েছেন যে, তিনি এই ঘোড়া নিয়েই পুরো কুম্ভ মেলায় ঘুরে বেড়াবেন। বাবার কথায়, তাঁর সঙ্গে চারজন আছে এবং তিনি বেরেলি থেকে চারটি ঘোড়া নিয়ে এসেছেন।
এটি তাঁর বছরের পর বছর ধরে ঐতিহ্যবাহী রাজকীয় যাত্রাকে আরও উন্নীত করবে। কুম্ভমেলায় এমন কিছু বাবাকেও দেখা গিয়েছে, যাদের শরীর সোনায় ভরা আর কিছু বাবা সাইকেলে হাজার হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে মহাকুম্ভে পৌঁছেছেন। একজন বাবা সর্বদা রত্নভাণ্ডারে মুড়ে থাকেন। ১০ ধরনের বেতের তৈরি মূল্যবান আংটি পরেন। তিনি তার হাতে অনেক সোনার চুড়ি এবং ব্রেসলেট পরেন এবং কাঁচ এবং স্ফটিক দিয়ে তৈরি মূল্যবান পাথরও পরেন। কিছু বাবা বুলেট মোটরবাইক নিয়ে কুম্ভমেলায় পৌঁছে ছেন। কিছু বাবা কোটি টাকার বিলাসবহুল গাড়িতে বসে কুম্ভমেলায় পৌঁছেছেন। যেখানে অনেক বাবা লক্ষাধিক দামের বিলাসবহুল গাড়িতে মহাকুম্ভে পৌঁছে ছেন, কিছু বাবা সাইকেলে করে কুম্ভ এলাকায় পৌঁছেছেন।