নিজস্ব প্রতিনিধি, কটক: ছাগল চড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার যুবতী। ঘটনাটি ঘটেছে ওড়িশায়। দুজন যুবক মিলে ওই যুবতীকে গণধর্ষণ করে। মহিলা ইতিমধ্যেই থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। গত ২০ দিনেরও কম সময়ের মধ্যে এটি বিজেপি শাসিত ওড়িশা রাজ্যে সপ্তম যৌন নির্যাতনের ঘটনা। এতে নারীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এবং পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার ভালুখাইয়ের জঙ্গলে ছাগল চরাতে গিয়েছিলেন ওই যুবতী। তখন ভজমান ভোই এবং সুনন্দ পিহু নামে দুই যুবক তাঁকে ভুল পথে নিয়ে যায়। এরপর উভয়ে মিলেই যুবতীকে ধর্ষণ করে। ঘটনার কয়েক ঘন্টা পরে ভোই এবং পিহু উভয়কেই নির্যাতিতার অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয়।
“ছাগল চরাতে যাওয়ার সময় ভালুখাই জঙ্গলের কাছে এক যুবতীকে ভজমান ভোই এবং সুনন্দা পিহু নামে দুই যুবক গণধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ। যুবতীকে নির্মমভাবে ধর্ষণ করা হয়েছে। খবর পেয়ে আমরা অভিযান চালিয়ে দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছি,” জানিয়েছেন বৈরি থানার ইনচার্জ অনসুমালা দাস জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন যে অভিযুক্তরা নির্যাতিতার পরিচিত ছিল। সেই জন্যই যুবতী তাদের বিশ্বাস করেছিলেন। পুলিশ এই বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত চালাচ্ছে।
জুনের মাঝামাঝি থেকে ওড়িশা রাজ্য জুড়ে ধর্ষণের বেশ কয়েকটি ঘটনা সামনে এসেছে। তার মধ্যে কিছু আবার গণধর্ষণ। মঙ্গলবার, পুলিশ জানিয়েছে যে ২৮ জুন গঞ্জাম জেলায় এক দূর সম্পর্কের আত্মীয় কর্তৃক সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রী ধর্ষিত হয়েছে। ২২ বছর বয়সী অভিযুক্তকে পরে গ্রেফতার করা হয়।
২৫ জুন, গঞ্জাম জেলায় এক ক্লিনিক মালিক কর্তৃক ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। পৃথক একটি ঘটনায়, ময়ূরভঞ্জ জেলার একটি স্থানীয় মন্দির থেকে বাড়ি ফেরার সময় এক তরুণীকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছিল।
১৯ জুন ময়ূরভঞ্জ জেলায় ৩১ বছর বয়সী এক তরুণীকে চারজন মিলে গণধর্ষণ করে। একদিন আগে, কেওনঝড় জেলায় বাড়ির কাছে একটি ধানক্ষেতে গাছ থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীর মৃতদেহ পাওয়া যায়। পরিবারের দাবি, আগের দিন সন্ধ্যা থেকে কিশোরী নিখোঁজ ছিল। পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, মৃত্যুর আগে তাকে যৌন নির্যাতন করা হয়েছিল। ১৫ জুন গোপালপুর সমুদ্র সৈকতে এক কলেজ ছাত্রীকে গণধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনায় ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়।