নিজস্ব প্রতিনিধি, মুম্বই: ১৯ বছর আগে ২০০৬ সালে মুম্বইয়ের লোকাল ট্রেনে ধারাবাহিক বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় সাজাপ্রাপ্ত ১২ আসামিকে বেকসুর খালাসের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হল মহারাষ্ট্রের সন্ত্রাস দমন শাখা। আজ মঙ্গলবার (২২ জুলাই) প্রধান বিচারপতি বিআর গাভাইয়ের ডিভিশন বেঞ্চে জরুরি ভিত্তিতে মামলার শুনানির আর্জি জানান মহারাষ্ট্র এটিএসের আইনজীবী। বিষয়টিকে ‘গুরুতর’ বলে দাবি করেন তিনি। ওই আর্জিতে সাড়া দিয়ে প্রধান বিচারপতি আভাই জানান, আগামী বৃহস্পতিবার ২৪ জুলাই মামলার শুনানি হহবে। উল্লেখ্য, গগতকাল সোমবার (২১ জুলাই) বম্বে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ ২০০৬ সালের ট্রেন বিস্ফোরণ মামলায় সাজা পাওয়া ১২ জনকে বেকসুর খালাস বলে ঘোষণা করে। খালাস পাওয়াদের মধ্যে পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড ও সাতজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা দিয়েছিল নিম্ন আদালত। যদিও মামলা চলাকালীন এক আসামির মৃত্যু হয়েছিল।
১৯ বছর আগে ২০০৬ সালের ১১ জুলাই দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসাবে পরিচিত মুম্বইয়ের লোকাল ট্রেনে ধারাবাহিক বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল। ১১ মিনিটের মধ্যে সাতটি ট্রেনে প্রেসার কুকারের মাধ্যমে রাখা বোমা বিস্ফোরণে প্রাণ হারান ১৮৯ জন। আহত হন ৮০০-র বেশি যাত্রী। ওই বিস্ফোরণের ঘটনা গোটা দেশবাসীকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। তদন্তে নেমে পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই ও জঙ্গি সংগঠন ইন্ডিয়ান মুজাহিদিনের যোগসূত্র খুঁজে পান গোয়েন্দারা। বিস্ফোরণের ১০ দিনের মাথায় ২১ জুলাই পুলিশ বোমা হামলায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে গ্রেফতার করে। তার মধ্যে বিহার থেকে দুজন ও মুম্বই থেকে একজনকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃত তিনজনই নিষিদ্ধ সংগঠন সিমির সদস্য। বিস্ফোএরণের ঘটনায় জড়িত থাকার অপরাধে ২০১৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর বিশেষ মহারাষ্ট্র সংগঠিত অপরাধ নিয়ন্ত্রণ আইন (MCOCA) আদালত ১২ জনকে সাজা শোনায়। বিভিন্ন ট্রেনে বোমা রাকার দায়ে ফয়সাল শেখ, আসিফ খান, কামাল আনসারি, এহতেশাম সিদ্দিকী এবং নাভিদ খানকে মৃত্যুদণ্ড দেওযা হয়। আর মোহাম্মদ সাজিদ আনসারি (যিনি বোমা তৈরির জন্য বৈদ্যুতিক সার্কিট প্রস্তুত করেছিলেন), মোহাম্মদ আলী, তানভীর আনসারি, মজিদ শফি, মুজ্জাম্মিল শেখ, সোহেল শেখ এবং জমির শেখকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা দেওয়া হয়।
নিম্ন আদালতের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বম্বে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন আসামিরা। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে চলা মামলার রায় দিতে গিয়ে সোমবার (২১ জুলাই) বম্বে হাইকোর্টের বিচারপতি অনিল কিলোর এবং বিচারপতি শ্যাম চন্দকের বেঞ্চ নিম্ন আদালতের রায় খারিজ করে দেন। রায়ে বিচারপতিরা বলেন, ‘আসামিরা যে বিস্ফোরণের সঙ্গে জড়িত তা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। এটা বিশ্বাস করা কঠিন যে অভিযুক্তরা অপরাধ করেছে। তাই, তাদের সাজা বাতিল করা হচ্ছে।’ অন্য কোনও মামলা না থাকলে ১২ জনকে জেল থেকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে বলেও নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতিরা।