Loading live market data...
Loading active stocks...
Connecting...
Heatmap
×

মোদির One Nation One Election’র তীব্র বিরোধিতা করে চিঠি মমতার

মোদির One Nation One Election নীতির বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে কোবিন্দের নেতৃত্বাধীন কমিটিকে প্রতিবাদ পত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।

Share:

নিজস্ব প্রতিনিধি: নরেন্দ্র মোদির(Narendra Modi) জমানায় বার বার অভিযোগ উঠেছে দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো ভেঙে দিয়ে এককেন্দ্রীয় সরকার গঠনের চেষ্টা চালাচ্ছে বিজেপি। এবার লোকসভা নির্বাচনের মুখে নতুন করে সেই অভিযোগ আবারও উঠল। নেপথ্যে One Nation One Election। দেশের সব রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন এবং লোকসভা নির্বাচন এক সঙ্গে করতে চায় মোদি সরকার। তাতে নাকি অর্থের সাশ্রয় ঘটবে। কিন্তু এবার জানা যাচ্ছে, শুধু লোকসভা-বিধানসভা নয়। সাংবিধানিক ভাবে দেশের সব রাজ্যের নির্বাচন কমিশনগুলির হাতে থাকা পুরসভা-পঞ্চায়েত ভোটকেও এক দেশ এক নির্বাচনের আওতায় আনতে চান মোদি। আর সেই সূত্রে রাজ্যের নির্বাচন কমিশনগুলিকে বিলুপ্ত করার রাস্তাও পরিষ্কার করে নিতে চায় বিজেপি(BJP)। সেটা বুঝেই এবার রুখে দাঁড়ালেন বাংলার অগ্নিকন্যা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়(Mamata Banerjee)। এদিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার তিনি দেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রামনাম কোবিন্দকে(Ramnath Kovind) চিঠি লিখে এই নীতির তীব্র প্রতিবাদ ও বিরোধিতা করেছেন।

মোদি সরকারের দাবি, গত ৪০ বছরে লোকসভা নির্বাচনের খরচ বেড়েছে ৪৭.৪ গুণ। সেই সুরে সুর মিলিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশনও। দুই তরফেরই দাবি, ১৯৮৪ সালে ভোট করাতে ভারত সরকারের খরচ হয়েছিল সাড়ে ৮১ কোটি টাকা। আর ২০১৪ সালে তা দাঁড়িয়েছিল ৩ হাজার ৭৮৮ কোটি ৩০ লক্ষ টাকায়। তাই মোদির দেখানো পথে হেঁটে কেন্দ্র সরকার One Nation One Election’র পথে হাঁটা দিতে চায়। সেই সূত্রেই তাঁরা বিষয়টি পর্যালোচনা করতে দেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দকে সভাপতি করে ৮ সদস্যের একটি উচ্চস্তরীয় কমিটি গড়েছে। এবার সেই কমিটিকেই এদিন চিঠি দিয়ে এই ব্যবস্থার তীব্র বিরোধিতা করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো তথা বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি তাঁর চিঠিতে লিখেছেন, ‘বিজেপির এক দেশ এক নির্বাচনের ব্যবস্থা আদতে দেশের সংবিধানের মৌলিক কাঠামোকে ধ্বংস করার একটি নকশা। এর মাধ্যমে দেশে একনায়কতন্ত্র স্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে। দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ভেঙে ফেলার, মুছে ফেলার একটা কদর্য প্রচেষ্টা। আর সেই কারণেই আমি একনায়কতন্ত্রের বিরোধী এবং এই নীতিরও তীব্র বিরোধিতা করছি।’

তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, One Nation One Election’র নীতি রূপায়ণের জন্য কেন্দ্র সরকার দেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের নেতৃত্বে যে কমিটি গড়েছে তাঁরাই মমতাকে চিঠি দিয়েছিলেন এই নিয়ে তাঁর মতামত জানাতে। তারই জবাব দিয়েছেন মমতা। উল্লেখ্য, কেন্দ্র সরকার শুধু One Nation One Election’র নীতি রূপায়ণ করেই ক্ষান্ত হতে চায় না। তাঁদের লক্ষ্য দেশের রাজ্যগুলির স্থানীয় স্বায়ত্ত্বশাসন ব্যবস্থাগুলিও নিজেদের মতো করে কব্জা করা। কেননা রাজ্য নির্বাচন কমিশনের কমিশনার নিয়োগ করে রাজ্য সরকারগুলি। কেন্দ্রের সরকার বা জাতীয় নির্বাচন কমিশন সেখানে কোনও রকমের হস্তক্ষেপ করতে পারে না। এই ব্যবস্থারই বিলুপ্তি চান মোদি ও বিজেপি। তাঁদের লক্ষ্য, দেশে একটাই নির্বাচন কমিশন থাকবে এবং সেখানে তাঁরা তাঁদের পেটোয়া লোকই বসাবেন। তার জন্য ইতিমধ্যেই তাঁরা বিল পাশ করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার পদে নিয়োগ কমিটি থেকে দুপ্রিম কোর্টের মুখ্য বিচারপতিকে বাদ দিয়েও দিয়েছেন। এবার নজর রাজ্যের নির্বাচন কমিশনগুলিকে বিলুপ্ত করার।

চিঠিতে মমতা লিখেছেন, ‘এক দেশ’ বলতে কী বোঝাতে চাইছেন। সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক কিংবা ঐতিহাসিক পটভূমিতে এক দেশের অর্থ আমরা বুঝি। কিন্তু ভারতের সংবিধানের শর্ত অনুযায়ী এক দেশের অর্থ আমার কাছে বোধগম্য নয়। সংবিধানে কি ‘এক দেশ এক সরকারের’ নীতি অনুসরণ করার কথা বলা রয়েছে? ভারত একটি যুক্তরাষ্ট্র। সংবিধানে সেই শর্তের কথা রয়েছে। কোথাও এক দেশ এক সরকারের কথা বলা নেই। এই মৌলিক বিষয়টি এড়িয়ে এক দেশ এক ভোটের কথা ভাবাই যায় না। লোকসভার সঙ্গে সব রাজ্যের বিধানসভা ভোট করবেন কী করে? ১৯৫২ সালে প্রথম সাধারন নির্বাচনের সময় থেকে কিছুদিন তা হয়েছিল। কিন্তু রাজ্য ও জাতীয় স্তরে রাজনৈতিক পালাবদলের কারণে সেই তালমিল ভেঙে গিয়েছে। যে সব রাজ্যে পাঁচ বছরের জন্য সরকার গড়তে মানুষ ভোট দিয়েছে, এক সঙ্গে ভোট করাতে গেলে সেখানে সরকার ভেঙে দিতে হবে। তা হয় নাকি!’

পাশাপাশি যেভাবে কোবিন্দের নেতৃত্বে এই উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে, তারও সমালোচনা করেছেন মমতা। তাঁর মতে, ‘সব রকমের মনোভাবাসম্পন্ন মানুষদের নিয়ে এই কমিটি তৈরি করা হয়নি। একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে তা ওপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভারত একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা। অথচ কমিটিতে কোনও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকেই রাখা হয়নি। রাজ্যস্তরে নির্বাচনের বিষয়টি একদমই আলাদা। জাতীয় স্তরে থাকে অন্যরকম। এক সঙ্গে ভোট করাতে গেলে এই ফারাকটা থাকবে না। কোনও ভাবে জাতীয় স্তরের বিষয় দিয়ে রাজ্যের ভোট করানো যায় না। এই ধরণের ধারনা নিয়েই আমার সন্দেহ রয়েছে। দেখে মনে হচ্ছে স্বৈরাচারী ব্যবস্থা গণতন্ত্রকে কুক্ষিগত করতে চাইছে। আমি স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে। তাই এই প্রস্তাবেরও বিরোধিতা করছি।’

দীপাবলিতে ঘরে টিকটিকির আগমন শুভ নাকি অশুভ! জানলে চমকে যাবেন

ত্বকের যত্নে ভিটামিন ই ক্যাপসুল কীভাবে ব্যবহার করবেন জানুন

রসনাতৃপ্তিতে নয়া পদে সাজিয়ে তুলুন থালা, জমে যাবে শেষপাত

পুজোর আগে সুখবর, সস্তা রান্নার গ্যাস, কত কমল দাম?

‘টেন্টেড’ তালিকাকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ ‘অযোগ্য’-রা

পাকিস্তানেই তৈরি হয় সন্ত্রাসবাদের ভিত্তি, চিনে নাম না করেই শাহবাজকে বিঁধলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি

0:00