নিজস্ব প্রতিনিধি: বাড়ির দেওয়ালের অবাঞ্ছিত সরীসৃপ হিসেবেই টিকটিকির(Lizard) মূল পরিচিতি। এদের উপস্থিতি সাধারণ মানুষের ধর্তব্যের মধ্যেই পড়ে না। নানান পোকামাকড় খেয়ে ঘরের পরিবেশ ঠিক রাখতে সাহায্য করে এই ছোট্ট প্রাণীটি, অথচ দীপাবলি এলেই বাড়ি পরিষ্কারের সময় এই প্রাণীগুলিকে তাড়িয়ে দেওয়া হয় বা বিষাক্ত কীটনাশক দিয়ে মেরে ফেলা হয়। কিন্তু বাস্তবিদরা বলছেন, বাড়িতে টিকটিকির উপস্থিতি অত্যন্ত শুভ। বিশেষত দীপাবলিতে(Diwali) যদি বাড়িতে টিকটিকির আগমন ঘটে তাহলে তা অত্যন্ত শুভ সংকেত(Lucky Sign) বলে ধরা হয়।
বাস্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, দীপাবলির সময়ে বাড়ি থেকে টিকটিকি, ইঁদুর, ও মাকড়সার মতো প্রাণীদের তাড়িয়ে দেওয়া উচিৎ নয়। বিশেষত, দীপাবলিতে টিকটিকির দেখা পাওয়া সাক্ষাৎ ভগবান দর্শনের সমান। কথিত আছে, ধনতেরাস থেকে ভাইফোঁটা পর্যন্ত এই ৫ দিন টিকটিকি প্রায় অদৃশ্য থাকে। কিন্তু ধনতেরাস বা দীপাবলির রাতে যদি কারোর বাড়িতে টিকটিকির দেখা মেলে তাহলে তা অত্যন্ত শুভ সংকেত বলে ধরে নেওয়া হয়।
দীপাবলির দিনে বাড়িতে টিকটিকির আগমনের বিষয়টিকে মা লক্ষ্মীর আগমনের চিহ্ন স্বরূপ বলে মনে করা হয়। এর ফলে গৃহে সুখ-সমৃদ্ধি বৃদ্ধি পায়। এছাড়াও মনে করা হয়, দীপাবলির রাতে যে বাড়িতে টিকটিকির দেখা মেলে সেই বাড়িতে সারাবছর আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকে। বাড়িতে খাদ্য ও সম্পদের অভাব হয় না। এছাড়াও এই বিশেষ দিনে টিকটিকির পাশাপাশি টিকটিকির ডিমের দর্শন পাওয়া অত্যন্ত শুভ লক্ষণ। ডিমের পরিমাণ যত বেশি হবে দর্শন প্রাপ্ত ব্যক্তির সৌভাগ্য তত গুন বৃদ্ধি পাবে। ফলে এই সরীসৃপ প্রাণীগুলিকে বাড়ি থেকে তাড়ানো মোটেই বুদ্ধিমানের কাজ হবে না, এমনটাই জানাচ্ছেন বাস্তু বিশেষজ্ঞরা। টিকটিকির পাশাপাশি এদিন ইঁদুর, কালো পিঁপড়ে, বিড়াল ইত্যাদি প্রাণীর দেখা পাওয়াও অত্যন্ত শুভ বলে বিবেচিত হয়। এদিন ইঁদুরের দর্শনে সাম্প্রতিক বাধা বিপত্তির অবসান ঘটে বলে মনে করা হয়।