নিজস্ব প্রতিনিধি: আবারও ছেলের মৃতদেহ আগলে ৪ দিন বসে থাকল মা। তবে এবার বিষয়টা একটু অন্যরকম। এখানেও মায়ের মানসিক অসুস্থতার খবর মিলেছে। ঘটনাটি ঘটেছে, লখনউয়ের গোমতীনগরে। সম্প্রতি সেখানে এক ইঞ্জিনিয়ার যুবক হাতের শিরা কেটে আত্মহত্যা করেছেন। অথচ তাঁর মা ৪ দিন ধরে কিছু টেরই পান নি। মৃত অবস্থায় প্রায় ৪ দিন ধরে ওই ইঞ্জিনিয়ারের দেহ বাড়িতে পড়েছিল। কিন্তু তাঁর মা কোনও চিহ্ন পায়নি। দেহ পচে যাওয়ার গন্ধও পায়নি। পরে প্রতি বেশীরা দুর্গন্ধ পেয়ে পুলিশকে খবর দিলে। পুলিশ এসে যুবকের পচাগলা দেহ উদ্ধার করে। জানা গিয়েছে, ঘটনার দিন যুবকের মানসিকভাবে অসুস্থ মা বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন।
এরপরেও তাঁকে বাইরে দেখা যায়নি। দিল্লিতে বসবাসকারী যুবকের বোন ফোন করলে তাঁর মৃত্যুর খবর প্রকাশ পায়, যার পরে পুলিশ ইঞ্জিনিয়ারের বাড়িতে গিয়ে তাঁর মৃতদেহটি উদ্ধার করে। অতুল তিওয়ারি নামে ওই ইঞ্জিনিয়ার যুবক গোমতী নগরের বীরমখণ্ডে অবস্থিত তাঁর বাড়িতেই হাতের শিরা কেটে আত্মহত্যা করেছেন। আর ঘটনাটি ৩-৪ দিন আগে ঘটে গিয়েছে। বাড়ির দোতলায় তার মৃতদেহ পাওয়া গিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছেন, স্ত্রীর সঙ্গে চরম বিরোধের কারণে অতুল দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপে ভুগছিলেন, যার কারণে তিনি এই কঠিন পদক্ষেপ নিয়েছেন। অতুল তার মা সুধা তিওয়ারির সঙ্গে একা থাকতেন। বিরোধের পর তাঁর স্ত্রী তাঁকে ছেড়ে চলে গিয়ে ছিলেন।
তার মা একই আবাসনের নিচতলায় থাকতেন এবং অতুল দোতলায় থাকতেন। তার মায়ের মানসিক অবস্থা ভালো নয়। মঙ্গলবার, অতুলের বোন গীতিকা ফোন করে তার মাকে তাঁর ভাইয়ের কথা জিজ্ঞাসা করলে, মা তাঁকে জানান যে, তিনি ৪ দিন ধরে অতুলকে দেখতে পাননি। এরপর সন্দেহজনকভাবে, বোন তাঁর মামাকে ফোন করে। মামা তাঁর পরিচিতদের বাড়িতে পাঠান। এরপর ঘর থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বেরোলে তারা পুলিশে খবর দেন। গোমতী নগর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। এসিপি গোমতী নগর জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যার ঘটনা। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে।