নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়া দিল্লি: নগদকাণ্ডে অভিযুক্ত এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি যশবন্ত বর্মার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করলেন লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা। ওই কমিটিতে রয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি অরবিন্দ কুমার, মাদ্রাজ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি মনিন্দর মোহন শ্রীবাস্তব এবং কর্নাটক হাইকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী বিভি আচার্য। লোকসভার অধ্যক্ষ জানিয়েছেন, “কমিটি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তার প্রতিবেদন জমা দেবে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রাপ্তি পর্যন্ত প্রস্তাবটি বিচারাধীন থাকবে।”
তিন সদস্যের প্যানেল ঘোষণার আগে স্পিকার ওম বিড়লা বিচারপতি যশবন্ত ভার্মার বিরুদ্ধে ১৪৬ জন সাংসদের স্বাক্ষরিত ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব গ্রহণ করেন। জুলাই মাসে সাংসদরা সংবিধানের ১২৪, ২১৭ এবং ২১৮ অনুচ্ছেদের অধীনে বিচারপতি পদ থেকে ভার্মার অপসারণের অনুরোধ জানিয়ে লোকসভা স্পিকারের কাছে একটি নোটিশ জমা দিয়েছিলেন। ১৪ মার্চ দিল্লি হাইকোর্টের তৎকালীন বিচারপতি বিচারপতি ভার্মার সরকারি বাসভবনে আগুন লেগে যায়। আগুন নেভাতে গিয়ে তাঁর বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা আবিষ্কার হয়। আগুনে সেই টাকার অনেক অংশ পুড়ে যায়। তারপর থেকে বিচারপতি ভার্মা শিরোনামে। এত টাকা, তার সম্পত্তি নিয়ে শুরু হয় তদন্ত।
তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না তিন বিচারককে নিয়ে একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন বিচারপতি শীল নাগু (তৎকালীন পঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি), বিচারপতি জিএস সান্ধওয়ালিয়া (তৎকালীন হিমাচল প্রদেশ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি) এবং বিচারপতি অনু শিবরমন (কর্ণাটক হাইকোর্টের বিচারপতি)। গত ৭ অগস্ট বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি যশবন্ত ভার্মার করা একটি রিট আবেদন খারিজ করে দেয়। সেই রিট আবেদন বিচারপতির বাড়িতে নগদ অর্থ কেলেঙ্কারির বিষয়ে দায়ের করা হয়েছিল।
এই আবেদন মারফত অভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রতিবেদনকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন বিচারপতি ভার্মা। ওই প্রতিবেদনে দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতিকে কেস-অ্যাট-হোম কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। ভারতের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি (সিজেআই) সঞ্জীব খান্না দিল্লিতে জাস্টিস ভার্মার সরকারি বাসভবনে বিপুল পরিমাণ হিসাব বহির্ভূত নগদ উদ্ধারের জন্য তাঁকে ইমপিচমেন্টের সুপারিশ করেছিলেন।