নিজস্ব প্রতিনিধি: রেললাইনের উপর রাখা আছে আস্ত গ্যাস সিলিন্ডার। পাশেই সাজানো পেট্রলের বোতল এবং দেশলাই বাক্স। অল্পের জন্য রক্ষা পেল যাত্রিবাহী কালিন্দি এক্সপ্রেস। উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজ থেকে হরিয়ানার ভিওয়ানির দিকে যাচ্ছিল ওই ট্রেন। রবিবার রাত ঠিক সাড়ে ৮ টা নাগাদ উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজ থেকে ভিওয়ানিগামী কালিন্দী এক্সপ্রেসের যাওয়ার পথে আনোয়ারগঞ্জ-কাসগঞ্জের বরাজপুর ও বিলহাউরের মধ্যে রেলওয়ে ট্র্যাকে রাখা একটি ভর্তি এলপিজি সিলিন্ডারের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা লাগে ওই ট্রেনের। যার ফলে ট্রেনটিকে প্রায় ৩০ মিনিট দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়। ভয়াবহ দুর্ঘটনার থেকে রক্ষা পাওয়া গিয়েছে। আচমকা সংঘর্ষের শব্দে ট্রেনের যাত্রীরাও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন। মনে করা হচ্ছে, চালক দ্রুত ট্রেন না থামালে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। ট্রেনে আগুনও ধরে যেতে পারত। ছিটকে যেতে পারত একাধিক কামরা। পুলিশি তদন্তে জানা গিয়েছে, কালিন্দি এক্সপ্রেসটিকে উল্টে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। কিন্তু লাইনের উপরে কে বা কারা সিলিন্ডার বসিয়ে রাখল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ট্রেনের ধাক্কায় সিলিন্ডারটি ছিটকে ৫০ মিটার দূরে গিয়ে পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে জরুরি ব্রেক কষে ট্রেন থামিয়ে দেন চালক। ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ ও এটিএস দল। এ মামলার তদন্তে পুলিশের পক্ষ থেকে পাঁচটি টিম গঠন করা হয়েছে। দুই হিস্ট্রিশিটরকেও আটক করেছে পুলিশ এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
তবে রেললাইনে সিলিন্ডারকে রেখেছিল, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে? জামায়াত বা বাইরের লোকজন সিলিন্ডারটি ট্র্যাকে রেখেছিল কিনা তার সন্দেহ উঠছে? এই দিক থেকে তদন্ত করছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই রেলওয়ে ট্র্যাক থেকে বোতল ভর্তি পেট্রোল ও গানপাউডার উদ্ধার করা হয়েছে। আরও তদন্ত চলছে। নিকটবর্তী ঝোপে কয়েক জনের বসে থাকার প্রমাণও মিলেছে। মনে করা হচ্ছে, ওই ট্রেনটিকে দুর্ঘটনার কবলে ফেলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। উদ্ধার হওয়া বোতলে তরল আদৌ পেট্রল কি না, তা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, গত ৮ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে আনোয়ারগঞ্জ-কাসগঞ্জ রেললাইনে বরাজপুর ও বিলহাউরের মধ্যে রেলওয়ে ট্র্যাকে রাখা একটি ভর্তি এলপিজি সিলিন্ডারের সঙ্গে কালিন্দী এক্সপ্রেসের সংঘর্ষ হয়। লোকো পাইলট বলেছিলেন যে তিনি ট্র্যাকে কিছু সন্দেহজনক বস্তু দেখেছিলেন যার পরে তিনি ব্রেক কষেন, কিন্তু তার পরেও ট্রেনটি নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি এবং ট্রেনটি সেই বস্তুর সঙ্গে সংঘর্ষে পড়ে, যার পরে খুব বিকট শব্দ হয়। এরপরেই তিনি ট্রেন থামিয়ে ঘটনার কথা গার্ড ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের জানান।
ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই আনোয়ারগঞ্জ স্টেশনের রেল সুপারিনটেনডেন্ট, আরপিএফ এবং রেলের অন্যান্য আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান। ঘটনাস্থলে তদন্ত করা হলে পুলিশ এলজিপির একটি সিলিন্ডার, মিষ্টির বাক্সে পেট্রোলের বোতল, বারুদ এবং ঝোপের মধ্যে ম্যাচস্টিকের মতো অনেক মারাত্মক পদার্থ পেয়েছেন। এর আধা ঘণ্টা পর ট্রেনটি ছেড়ে দেওয়া হয়। পুলিশ ও ফরেনসিক দল ঘটনাস্থলে এসে তদন্ত করে। সমস্ত সন্দেহজনক আইটেম তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় নিজেদের দোষ ঢাকতে, কানপুর দেহাত থেকে বিজেপির সাংসদ বলেছেন, ভারতীয় রেলকে যেভাবে অবিরামভাবে টার্গেট করা হচ্ছে তা ট্রেন এবং যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য একটি গুরুতর বিষয়। রেলের ইজ্জতনগর ডিভিশনের জনসংযোগ আধিকারিক রাজেন্দ্র সিংহ বলেছেন, ‘‘বোতলে যে তরল মিলেছে, তা পেট্রল বলেই মনে হচ্ছে। তবে পরীক্ষার পর সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে। রেললাইনের ধারে দেশলাই এবং কিছু বিস্ফোরক পদার্থও মিলেছে। সেগুলি বাজেয়াপ্ত করা হচ্ছে।’’ ১৭ই আগস্ট রাতে কানপুর-ঝাঁসি রুটে সবরমতি এক্সপ্রেসের ২২টি বগি ইঞ্জিনসহ লাইনচ্যুত হয়েছিল। বারাণসী থেকে আহমেদাবাদ যাচ্ছিল ট্রেনটি। দুর্ঘটনার শিকার ট্রেনের চালক জানিয়েছেন যে বোল্ডারটি ইঞ্জিনে ধাক্কা লেগে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। তবে কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।