নিজস্ব প্রতিনিধিঃ আপাতত কর্নাটকে মুক্তি পাচ্ছে না ‘ঠগ লাইফ’, সেটাও মেনে নিতে রাজি, তবুও ক্ষমা চাইবেন না অভিনেতা রাজনীতিবিদ কমল হাসান। হাইকোর্টের কাছে তিরস্কৃত হওয়ার পরেও মত বদলালেন না তামিল সুপারস্টার। কর্নাটকে ‘ঠগ লাইফ’ মুক্তির দাবিতে আবেদন জানিয়ে ছিলেন অভিনেতা। গত মাসে চেন্নাইতে ‘ঠগ লাইফ’- এর প্রচারণার সময় কন্নড় ভাষা নিয়ে একটি বেফাঁস মন্তব্য করে ফেলেন অভিনেতা। তিনি বলেন, ‘তামিল থেকেই জন্ম কন্নড় ভাষার।’ এরপরেই রক্ষণশীল কন্নড়পন্থী সংগঠনগুলি অভিনেতাকে ক্ষমা চাওয়ার দাবি তোলে। যেখানে দাবি করা হয় যে, কন্নড় ভাষার ইতিহাস না জেনেই অভিনেতা ভুলভাল মন্তব্য করেছেন তা একেবারেই বরদাস্ত করা হবে না, তিনি এমন মন্তব্য করে কন্নড়ভাষীদের অপমান করেছেন। অবিলম্বে ক্ষমা চাইতে হবে। ইতিমধ্যেই অভিনেতার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। কিন্তু বরাবরই ক্ষমা চাইতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন ৭০ বছর বয়সী নায়ক।
আজ হাইকোর্ট থেকেও অভিনেতাকে ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছে। এবং তাঁর মন্তব্য তুলে নিতে বলেছে। কিন্তু শুনানি শেষে অভিনেতার প্রযোজনা সংস্থা জানিয়েছে, ক্ষমা চাওয়ার মতো কিছুই নেই। তাঁর ছবি ‘ঠগ লাইফ’ আপাতত কর্ণাটকে মুক্তি পাবে না। এদিকে কর্নাটক হাইকোর্টে ছবি মুক্তির জন্যে আবেদন জানালে কমল হাসানকে তিরস্কার করে আদালত বলে, কমল হাসানের বক্তব্য কর্ণাটকে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। অনেক ভাষা থাকতে পারে, কিন্তু দেশ এক। মঙ্গলবার দুপুর ২.৩০ টা পর্যন্ত অভিনেতাকে “সংশোধন” করার সময় দিয়েছিল আদালত। বলেছিল, “তিনি জনপ্রিয় চলচ্চিত্র তারকা হতে পারেন কিন্তু জনসাধারণের অনুভূতিতে আঘাত” করার অধিকার নেই তাঁর।” কর্ণাটক হাইকোর্ট কমল হাসান-কন্নড় ভাষা বিরোধের শুনানি ১০ জুন পর্যন্ত স্থগিত রেখেছে।
কমল হাসানের বিতর্কিত মন্তব্য এবং বিবৃতির জন্য ক্ষমা চাইতে অস্বীকৃতি জানানোর জন্য গত সপ্তাহে কর্ণাটক ফিল্ম চেম্বার অফ কমার্স (KFCC) কমল হাসানের ছবি ‘ঠগ লাইফ’-এর মুক্তি নিষিদ্ধ করেছে। এদিকে ৩০ মে বেঙ্গালুরুতে একটি সংবাদমাধ্যমকে কেএফসিসির প্রতিনিধি সা রা গোবিন্দু বলেন যে, তারা কর্ণাটকে কমল হাসান অভিনীত ‘ঠগ লাইফ’-এর মুক্তি নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অভিনেতার ক্ষমা চাওয়া পর্যন্ত ছবিটির মুক্তি বন্ধ থাকবে। তার উত্তরে অভিনেতা বলেছিলেন যে, ‘দোষ করলে আমি ক্ষমা চাইব। কিন্তু আমি কোনও দোষ করিনি। আমি ভাষা নিয়ে মন্তব্য করার কেউ নই।‘