নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: দেশের নিরাপত্তার পক্ষে হুমকি স্বরূপ হওয়ায় বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনে (ইউএপিএ) মঙ্গলবার জম্মু-কাশ্মীরের আরও দুটি সংগঠনকে নিষিদ্ধ করল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। নিষিদ্ধ হওয়া সংগঠন দুটি হল বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা মিরওয়াইজ ওমর ফারুখের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি (এএসি) এবং মনসুর আব্বাস আনসারির নেতৃত্বাধীন জম্মু এবং কাশ্মীর ইত্তেহাদুল মুসলমিন (জেকেআইএম)। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে জারি করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ভারতের সার্বভৌমত্ব, অখণ্ডতা এবং নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ কার্যকলাপে জড়িত থাকার কারণেই ১৯৬৭ সালের বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইন (UAPA) এর অধীনে সংগঠন দুটির কার্যক্রম পাঁচ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে।’
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ‘২০১৯ সালের ৫ অগস্ট জম্মু-কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের পরেই মিরওয়াইজ ওমর ফারুখ উপত্যকার রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিক থাকতে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনকে মদত দিয়ে চলেছেন। বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন হুরিয়ত কনফারেন্সের আড়ালে নতুন করে দেশবিরোধীদের একত্রিত করার কাজ শুরু করেছেন।জম্মু ও কাশ্মীরে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের জন্য তহবিল সংগ্রহের মতো অভিযোগও রয়েছে। গত বিধানসভা ভোটে নির্বাচন বয়কট করতে জনগণকে উৎসাহিত করেছিলেন। সংগঠনের নেতা এবং কর্মীদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ, বেআইনি সমাবেশ এবং সহিংসতা উস্কে দেওয়ার মতো মারাত্মক অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে বেশ কয়েকটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। দেশবিরোধি কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে আওয়ামী অ্যাকশন কমিটির মুখপাত্র আফতাব আহমেদ শাহের বিরুদ্ধে চার্জশিটও দাখিল করেছে জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ)।
মনসুর আব্বাস আনসারির নেতৃত্বাধীন জম্মু এবং কাশ্মীর ইত্তেহাদুল মুসলমিনের বিরুদ্ধেও দীর্ঘদিন ধরে দেশবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। সংগঠনের তরফে কাশ্মীরকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে উপত্যকার মানুষের মনে ঘৃণা ছড়ানোর অভিযোগও রয়েছে।