নিজস্ব প্রতিনিধি: লীলার শেষ নেই মহাপ্রভু জগন্নাথের। কারণ তিনি লীলা পুরুষোত্তম। হাত অসম্পূর্ণ হয়েও তাঁর হাত আছে, কান নেই তবুও শোনেন সব, জানেন সব। কিন্তু তাঁকে বোঝা দায়। তাঁকে বোঝার ক্ষমতা নেই মনুষ্যজাতির। এমনকি তাঁর শ্রীমন্দির রহস্যে ভরা, আজও বিজ্ঞান যার ব্যাখ্যা পায়নি। বিজ্ঞানীরা মুখ থুবড়ে পড়েছেন তাঁর লীলা আর রহস্যের সামনে।
বলা হয়ে থাকে, পুরীর শ্রী জগন্নাথ মন্দিরে এলে পাপ খণ্ডন হয়। মহাপ্রভু শ্রী জগন্নাথ মুক্তি দেন সব পাপের থেকে। এদিকে সেই রহস্যময় শ্রীমন্দির ঘিরে আজও যে রহস্য মানব মনে প্রশ্ন ওঠে, সেটি হল – শ্রী মন্দিরের মাথায় থাকা ধ্বজা হাওয়ার বিপরীতে ওড়ে। এমন কি মন্দিরের চূড়ার কোনও ছায়া মাটিতে পড়ে না। কিন্তু কেন? কী এমন রহস্য আছে এর পেছনে?
এই প্রসঙ্গে প্রচলিত আছে একটি পৌরাণিক কাহিনি। কথিত আছে – মন্দিরের ধ্বজার হওয়ার বিপরীতে ওড়ার কারণের পিছনে রয়েছে ভগবান হনুমানের যোগ। প্রচলিত কাহিনী অনুযায়ী, মন্দিরের একদম কাছে থাকা সমুদ্রের শব্দের কারণে মা সুভদ্রা ভয় পান। মতান্তরে, ভগবান জগন্নাথের বিশ্রাম নিতেও সমস্যা হয় । এমতাবস্থায় পবনপুত্র হনুমান বিষয়টি জানতে পেরে তৎক্ষণাৎ সমুদ্রকে তার গর্জন বন্ধ করতে বলেন। কিন্তু সমুদ্র হনুমানকে জানান, এই শব্দে তাঁর কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই। অর্থাৎ, বাতাসের গতি যতদূর থাকবে ঠিক ততদূর সমুদ্রের শব্দ পৌঁছাবে। তাই হনুমানজি তাঁর পিতা পবন দেবকে বাতাসের অভিমুখ পরিবর্তন করতে অনুরোধ করলে তিনি তা কার্যত অসম্ভব বলে জানান। তাই বজরঙ্গবলী হনুমান তাঁর শক্তি দিয়ে নিজেকে দু’টি ভাগে ভাগ করে বাতাসের চেয়ে দ্রুত গতিতে মন্দিরের চারপাশে প্রদক্ষিণ করতে শুরু করেন। যার ফলে সেখানে এমন বায়ুচক্র তৈরি হয় যে, সমুদ্রের শব্দ আর মন্দিরের ভিতরে না গিয়ে বরং তা মন্দিরের চারপাশে ঘোরাফেরা করতে থাকে।
সেই কারণেই পুরীর মন্দিরের খুব কাছে সমুদ্র থাকা সত্বেও সেই আওয়াজ মন্দিরের ভিতরে শোনা যায় না আর, মন্দিরের পতাকাও বাতাসের বিপরীত দিকে উড়তে থাকে।
অন্যদিকে মন্দিরের ছায়া না পড়ার বিষয়ে বলতে গেলে বলতে হয়, মন্দিরের বিশেষ গঠনগত বাস্তু শৈলীই এর কারণ। বেশ কিছু বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা বলে মন্দিরের চূড়ার ছায়া ভবনে পড়ে, ফলে মাটিতে কোনও ছায়া পড়তে দেখা যায় না। তবে, এই ব্যাখ্যার সত্যতা যাচাই হয়নি। এছাড়াও কেউ কেউ এটিকে মহাপ্রভু জগন্নাথের অসীম লীলাকে দায়ী করে।