নিজস্ব প্রতিনিধি, শ্রীনগর: লিভ ট্র্যাভেল কনসেশনেই (এলটিসি) স্ত্রী আর সন্তানদের নিয়ে ‘মিনি সু্ইৎজারল্যান্ড’ পহেলগাঁওয়ে ঘুরতে গিয়েছিলেন বিহারের মণীশ রঞ্জন। কর্মসূত্রে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার আধিকারিক। মঙ্গলবার দুপুরে যখন প্রাণভরে উপভোগ করছিলেন নৈসর্গিক দৃশ্য, তখনও ঘুণাক্ষরে বুঝতে পারেননি ওঁৎ পেতে রয়েছে মৃত্যুদূতরা। খানিকবাদেই মাটি ফুঁড়ে উদয় হল সাক্ষাৎ মৃত্যুদূতরা। তার পর স্ত্রী আর সন্তানদের সামনেই গুলিতে ঝাঁঝরা করে দিল মণীশবাবুকে। ‘মিনি সুইৎজারল্যান্ড’ দেখতে গিয়ে না ফেরার দেশেই পাড়ি জমালেন দুঁদে গোয়েন্দা আধিকারিক।
শুধু মণীশ রঞ্জন-ই নয়, একই রকম মর্মান্তিক পরিণতি ঘটেছে আরও অনেক পর্যটকের। তাদের মধ্যে যেমন রয়েছে কলকাতার পাটুলি-বৈষ্ণবঘাটার বাসিন্দা বিতান অধিকারী, তেমনই রয়েছেন এক নৌসেনা আধিকারিক। মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত মোঋ ২৬ পর্যটকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। যদিও সংখ্যাটি আরও বাড়তে পারে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে নিহতদের পরিচয় প্রকাশ্যে আসছে। আর সেই সঙ্গে প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান হতবাক করে দিয়েছে দেশবাসীকে।
জম্মু-কাশ্মীরে ছুটি কাটাতে গিয়েছিল কর্নাটকের শিবমোগ্গার বাসিন্দা মঞ্জুনাথ রাও। সঙ্গে ছিল স্ত্রী ও পুত্র। জঙ্গিদের গুলিতে ঝাঁঝরা হয়েছেন মঞ্জুনাথ । অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচেছেন স্ত্রী পল্লবী এবং পুত্র। হামলার বর্ণনা দিতে গিয়ে পল্লবী জানিয়েছছেন, ‘অতর্কিত তাঁদের আক্রমণ করে তিন থেকে চার জন। তাঁর স্বামীকে খুন করার পর ওই চার জনের এক জন বলে, ‘‘তোকে মারব না। যা, মোদিকে গিয়ে বল।’ পরিবার নিয়ে ঘুরতে গিয়ে মঞ্জুনাথের মতো চরম পরিণতি জুটেছে মণীশ রঞ্জনের ভাগ্যে। বিহারের বাসিন্দা মণীশ কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা আইবি’র হায়দরাবাদ শাখায় কর্মরত ছিলেন। লিভ ট্র্যাভেল কনসেশনে (এলটিসি) সপরিবারে গিয়েছিলেন মিনি সুইৎজারল্যান্ডে। কিন্তু আনন্দ পরিণত হয়েছে বিষাদে। জঙ্গিদের গুলিতে ঝাঁঝরা হতে হয়েছে।
পহেলগাঁওয়ের বৈসারনে মঙ্গলবারের ভয়াবহ জঙ্গি হামলার পরেই গোয়েন্দা সংস্থাগুলির ভূমিকা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন হামলার শিকার হওয়া পর্যটকরা। তাদের প্রশ্ন, কথায়-কথায় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো প্রধানমন্ত্রী মোদি –সহ দেশের শীর্ষ নেতা-মন্ত্রীদের প্রাণনাশ হতে পারে বলে রিপোর্ট দেন, মিডিয়াতেও তা ফলাও করে প্রচার হয়। জঙ্গিরা যে এতবড় হামলা চালাতে পারে, সেই রিপোর্ট পেলেন না কেন? নাকি তাদের কাছে রাজনৈতিক প্রভু ছাড়া আর কারও জীবনের মূল্য নেই?