নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হানার পরেই ভারতীয় সামরিক বাহিনীর তিন শাখাকে (স্থল, নৌ ও বায়ু) বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে উচ্চ সতর্কতা অবলম্বনও করতে বলা হয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন উরি হামলার পরে যেভাবে প্রত্যাঘাতের পথে হেঁটেছিল মোদি সরকার, এবারও তেমনই পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। অতর্কিতে হামলা চালিয়ে পাকিস্তানের কব্জামুক্ত করা হতে পারে জঙ্গিদের ডেরা পাক অধিকৃত কাশ্মীরকে।
পহেলগাঁওয়ে গতকাল মঙ্গলবার জঙ্গি হানায় ২৮ পর্যটকের মৃত্যুর পরেই ভূস্বর্গ কাশ্মীর সহ দেশের সীমান্ত এলাকা কীভাবে সুরক্ষিত রাখা যায়, তা নিয়ে বুধবার সকালে তিন বাহিনীর শীর্ষ কর্তাদের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের শীর্ষ আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠকে বসেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংহ। সূত্রের খবর ওই বৈঠকে স্থল সেনা নৌ সেনা ও বায়ুসেনাকে বিশেষ প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে দেশের সমস্ত বায়সেনা ঘাঁটিগুলিকেও যে কোনও নির্দেশ বাস্তবায়নের জন্য যুদ্ধকালীন ভিত্তিতে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দে্ওয়া হয়েছে।
পহেলগাঁওয়ের পরে গান্ডেরবাল, গুলমার্গ, সোনমার্গ সহ জম্মু-কাশ্মীরের পর্যটন কেন্দ্রগুলির নিরাপত্তা বাড়ানোর উপরেও জোর দেওয়া হয়েছে। পর্যটকরা ভিড় জমান এমন স্থানগুলিতে বাড়তি সেনা জওয়ান মোতায়েন করার পাশাপাশি আকাশপথে ধারাবাহিক নজরদারি চালানোর জন্য বাযুসেনাকে বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের সাহায্যে পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই পশ্চিমবঙ্গ-সহ উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতে নাশকতা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন সেনা আধিকারিকরা। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে এমন স্থানগুলিতে বাড়তি সেনা ও সমরাস্ত্র মোতায়েনের সুপারিশ করেছেন তাঁরা।