নিজস্ব প্রতিনিধি: কাশ্মীর নিয়ে পাকি-সেনাপ্রধান অসিম মুনিরের দেওয়া বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাল ভারত সরকার। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রনধীর জয়সওয়াল স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিলেন যে, কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই যেভাবেই হোক কাশ্মীরকে পাকিস্তানের অবৈধ দখল থেকে মুক্ত করতে হবে। বৃহস্পতিবার সকালে একটি ভাষণে পাক সেনাপ্রধান অসিম মুনির কাশ্মীরকে ‘জুগুলার শিরা’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। যার অর্থ আমাদের শরীরের শিরাগুলি মস্তিষ্ক থেকে হৃৎপিণ্ডে রক্ত সঞ্চালন করে। তাই মুনির পাকিস্তান এবং কাশ্মীরকে তুলনা করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু ভারত সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, ‘কী ভাবে বিদেশী বস্তু কাশ্মীরের শিরায় থাকতে পারে। এটি ভারতের একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল। তাই পাকিস্তানের উচিত, কাশ্মীরের যেসব জায়গাগুলি অবৈধভাবে দখল করে রয়েছে তাদের দেশ, সেগুলি অবিলম্বে খালি করে দেওয়া।’
তাই বিদেশমন্ত্রক ভারতের উপর পাকিস্তানের অবৈধভাবে দখলকৃত অংশগুলি খালি করে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। ভারত ইতিমধ্যেই জাতিসংঘে পাকিস্তানেরর দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে এবং স্পষ্টভাবে তাঁদের এখতিয়ার বুঝিয়ে দিয়েছেন। উল্লেখ্য, প্রবাসী পাকিস্তানিদের প্রথম বার্ষিক সমাবেশ চলতি বছরের ১৩-১৬ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেখানে পাকি সেনা প্রধান জেনারেল অসিম মুনির হিন্দুবিদ্বেষী একাধিক মন্তব্য করেছেন। সেই ভিডিও এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হচ্ছে। মুনিরের বক্তৃতায় হিন্দু ধর্মের প্রতি ঘৃণা স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। ১৬ই এপ্রিল আসিম মুনির এই সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ সহ পাকিস্তানের সকল প্রথম সারির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ভাষণে ভারতের মর্মান্তিক বিভাজনের কথা উল্লেখ করে ‘মোল্লা জেনারেল’ নামে পরিচিত মুনির বলেন, ‘পাকিস্তানের গল্প আমাদের শিশুদের বলা উচিত। যাতে তারা দেশের গল্প ভুলে না যায়। আমাদের পূর্বপুরুষরা ভাবতেন যে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই আমরা হিন্দুদের থেকে আলাদা। আমাদের ধর্ম আলাদা, আমাদের রীতিনীতি আলাদা, আমাদের ঐতিহ্য আলাদা, আমাদের চিন্তাভাবনা আলাদা, আমাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা আলাদা। এখানেই দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তি স্থাপন করা হয়েছিল। আমরা দুটি জাতি, আমরা এক জাতি নই। এই দ্বি-জাতি তত্ত্বকে মাথায় রেখেই আমাদের পূর্বপুরুষরা সংগ্রাম করেছেন, নিরন্তর সংগ্রাম করে এই দেশটি তৈরি করেছেন। আমি এই দেশের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছি। তাই আমার ভাই ও বোনেরা, ছেলে ও মেয়েরা, পাকিস্তানের এই গল্পটা কখনো ভুলে যেও না। তোমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে এটা বলো। যাতে তারা পাকিস্তানের সঙ্গে তাদের সংযোগ অনুভব করতে পারে।” এরপরেই অসিম মুনির বক্তৃতায় জম্মু ও কাশ্মীরের একই পুরনো ইস্যু উত্থাপন করেন এবং এটিকে পাকিস্তানের শিরপীড়া বলে অভিহিত করেন।