Loading live market data...
Loading active stocks...
Connecting...
Heatmap
×

‘তিন বছরের সন্তান রয়েছে”, আর্তি জানিয়েও মেলেনি রেহাই, জঙ্গিদের গুলিতে মাথা এফোঁড়-ওফোঁড়

Share:

নিজস্ব প্রতিনিধি: সন্ত্রাসীদের কাছে জীবন ভিক্ষা করেছিলেন ৩৫ বছর বয়সী ভারত ভূষণ। নিজের জন্য নয়, প্রাণ ভিক্ষা চেয়েছিলেন সন্তানের জন্য। হতভাগ্য তিন বছরের শিশুপুত্র বুঝতেই পারছে না তার বাবা আর নেই। মঙ্গলবার পহেলগাঁওয়ে জঙ্গিদের গুলিতে যারা নিহত হয়েছিলেন তাঁদের মধ্যে একজন হলেন ভারত ভূষণও।

স্ত্রী ডঃ সুজাতা ভূষণ এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের কাছে সেদিনের সেইসব ভয়াবহ মুহূর্তের কথা বলতে গিয়ে বারবার শিউড়ে উঠেছেন। সুজাতার কথায়, “আমরা ১৮ এপ্রিল ছুটি কাটাতে গিয়েছিলাম। পহেলগাঁও ছিল আমাদের শেষ গন্তব্য। সেদিন আমরা পনি রাইড করে বৈসারণ গিয়েছিলাম। সেখানে পৌঁছে আমরা ছবি তুলছিলাম, ছেলের সঙ্গে খেলছিলাম। আমরা কাশ্মীরি পোশাক পরেছিলাম। তারপর হঠাৎ প্রচুর গোলাগুলির শব্দ শুনতে পেলাম।”

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন যে দুপুর আড়াইটের কিছু পরে আক্রমণ শুরু হয়েছিল। একটি মাত্র গুলির শব্দে হত্যাকাণ্ডের ঘোষণা করা হয়েছিল। তারপর সন্ত্রাসীরা বৈসরণে ঢুকে নির্মমভাবে মানুষ খুন করতে শুরু করে। একজন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন এই সব সন্ত্রাসবাদীদের বছরের পর বছর ধরে সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

ভূষণ পরিবার, অন্যান্য পর্যটক এবং স্থানীয়রা যখন বিষয়টি বুঝতে পারেন তখন তাঁরা আশ্রয়ের জন্য দৌড়াতে থাকেন। কিন্তু কোথাও কোনও আশ্রয়স্থল ছিল না। বিশাল সবুজ প্রান্তরের মাঝে আটকে পড়েরন পর্যটকেরা।

“প্রথমে আমরা ভেবেছিলাম পাখি বা বন্য প্রাণী তাড়ানোর জন্য বন্দুক চালানো হচ্ছে। কিন্তু শব্দ ক্রমাগত কাছে আসতে থাকে। ততক্ষণে আমরা বুঝে গিয়েছি যে সন্ত্রাসবাদী আক্রমণ শুরু হয়েছে। বৈসরণ একতা বিশাল মাঠ। তার ঠিক মাঝখানে আমরা ছিলাম। কোনওরকমে একটা তাঁবু পেয়ে তার আড়ালে লুকিয়ে ছিলাম আমরা।”- সেদিনের ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে হাড়হিম হয়ে গিয়েছে নিহতের স্ত্রীর।

ডাঃ সুজাতার আরও সংযোজন,”একজন সন্ত্রাসী প্রায় ১০০ ফুট দূরে একটি তাঁবুতে গিয়েছিল। সে একজন লোককে বাইরে নিয়ে এসে মাথায় গুলি করে। সব দেখতে পাচ্ছিলাম আমরা। তারপর আমাদের তাঁবুর কাছে এসে এক বয়স্ক ব্যক্তিকে বলে ‘আমাদের বাচ্চারা যখন কষ্ট পাচ্ছে তখন তোমরা কীভাবে ছুটি উপভোগ করতে পারো?’ তারপরেই ওই মানুষটিকে গুলি করা হয়। এরপর সে আমার স্বামীর কাছে আসে। তিনি বলেন আমার একটি সন্তান রয়েছে। আমাকে দয়া করে বাঁচতে দাও। কিন্তু সন্ত্রাসীর কানে সেই আর্তি যায়নি, সে আমার স্বামীকে গুলি করে চলে যায়।”

পহেলগাঁও হামলা ছয় বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে জম্মু ও কাশ্মীরের সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে পুলওয়ামা জেলায় ৪০ জন সেনা নিহত হওয়ার পর থেকে এটিই সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা।

অবসরপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ মেজর জেনারেল যশ মোর সেই সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন হামলার মাত্রা, ব্যবহৃত সরঞ্জাম এবং পরিকল্পনা সবকিছুর মধ্যে পাকিস্তানের ইন্টার সার্ভিস ইন্টেলিজেন্সের হাত থাকার ইঙ্গিত স্পষ্ট।

তারপর থেকে ভারত এই হামলার বিরুদ্ধে কূটনৈতিক এবং অ-সামরিক প্রতিক্রিয়া ঘোষণা করেছে। তার মধ্যে রয়েছে সিন্ধু চুক্তি স্থগিত করা এবং পাক নাগরিকদের ভিসা বাতিল করাও।

দীপাবলিতে ঘরে টিকটিকির আগমন শুভ নাকি অশুভ! জানলে চমকে যাবেন

ত্বকের যত্নে ভিটামিন ই ক্যাপসুল কীভাবে ব্যবহার করবেন জানুন

রসনাতৃপ্তিতে নয়া পদে সাজিয়ে তুলুন থালা, জমে যাবে শেষপাত

পুজোর আগে সুখবর, সস্তা রান্নার গ্যাস, কত কমল দাম?

‘টেন্টেড’ তালিকাকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ ‘অযোগ্য’-রা

পাকিস্তানেই তৈরি হয় সন্ত্রাসবাদের ভিত্তি, চিনে নাম না করেই শাহবাজকে বিঁধলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি

0:00