নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: বিধানসভা ভোটের মুখেই বিপাকে আম আদমি প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও দিল্লির প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী মণীশ শিসোদিয়া। দুজনের বিরুদ্ধেই আবগারি নীতি কেলেঙ্কারি মামলায় আইনি প্রক্রিয়া চালিয়ে নিতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটকে (ইডি) অনুমতি দিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। বিধানসভা ভোটের মুখে অমিত শাহের মন্ত্রকের এমন সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আখ্যা দিয়েছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী তথা আপ নেত্রী আতিশী মার্লেনা। তাঁর কথায়, ‘বিধানসভা ভোটে আম আদমি পার্টির জয় রুখতে কেন্দ্রীয় সংস্থা ও প্রশাসনকে অপব্যবহার করতে শুরু করেছে বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব।’
দিল্লি সরকারের আবগারি নীতি মামলায় দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন উপরাজ্যপাল ভিকে সাক্সেনা। ওই নির্দেশের পরেই তদন্তে নেমে প্রথমে তৎকালীন উপমুখ্যমন্ত্রী মণীশ শিসোদিয়াকে গ্রেফতার করে সিবিআই। পরে ইডিও শ্যেন অ্যারেস্ট দেখায়। পরে গত বছরের ২১ মার্চ তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে গ্রেফতার করে ইডি। একই মামলায় সিবিআই তাঁকে ২৬ জুন শোন অ্যারেস্ট (গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিকে নতুন করে হেফাজতে নেওয়া) করে। দু’টি ক্ষেত্রেই সুপ্রিম কোর্ট তাঁর অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর করেছে। জেল থেকে বেরিয়ে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন কেজরিওয়াল। তাঁর জায়গায় ওই পদে শপথ নিয়েছেন আতিশী মার্লেনা।
গত ৬ নভেম্বর কেজরিওয়ালের দায়ের করা মামলায় সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল, কোনও জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে রাজ্য সরকারের সম্মতি ছাড়া আর্থিক তছরুপ প্রতিরোধ আইনে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করা যায় না। এর আগে ইডির কোনও মামলায় জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়ার জন্য রাজ্য সরকারের সম্মতির প্রয়োজন হত না। সিবিআই বা রাজ্য পুলিশের ক্ষেত্রে সেই সম্মতি দরকার হত। পরে ইডির ক্ষেত্রেও একই নিয়ম বলবৎ হয়। শীর্ষ আদালতের ওই নির্দেশের পরে কেজরিওয়ালের বিরুদ্ধে আর্থিক তছরুপ প্রতিরোধ আইনে বিচারের অনুমতি চেয়ে দিল্লির উপরাজ্যপালের কাছে আবেদন জানিয়েছিল ইডি। গত ২১ ডিসেম্বর সেই আবেদনে সাড়া দিয়ে ইডিকে আইনি প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার অনুমোদন দিয়েছিলেন দিল্লির উপরাজ্যপাল ভি কে সাক্সেনা। ওই অনুমতি পাওয়ার পরে কেজরিওয়াল ও মণীশ শিসোদিয়ার বিরুদ্ধে মামলা চালিয়ে যেতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অনুমোদন চায় ইডি। সেই আর্জিতে সাড়া দিয়ে মঙ্গলবার অনুমোদন দিয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক।