নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়া দিল্লি: ৪১ বছর পর ইতিহাস তৈরি করতে যাচ্ছে ভারত। রাকেশ শর্মার পর ভারত থেকে মহাকাশে যাত্রা করেছেন শুভাংশু শুক্লা। ভারতীয় নভশ্চারী গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুভাংশু আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (ISS) এর দিকে এগিয়ে চলেছেন। Axiom Space-এর X- হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট শেয়ার করে সেই যাত্রাপথের রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার বর্ণনা করেছেন তিনি। শুভাংশু বলেছেন, “উৎক্ষেপণের দিন ড্রাগন ক্যাপসুলে ৩০ দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকার পর শুধু ভাবছিলাম এভার এটা দ্রুত চলুক।”
শুভাংশু মহাকাশ স্টেশনে যাওয়ার সময় ড্রাগন ক্যাপসুল থেকে বলেছিলেন, “আমি খুব গর্ব বোধ করছি। আমার কাঁধে থাকা তেরঙ্গা পতাকা আমাকে জানান দিচ্ছিল যে সমস্ত দেশবাসী আমার সঙ্গে রয়েছেন। এটি ভারতের মানব মহাকাশযানের জন্য এটি একটি বড় পদক্ষেপ। আমার সাথে আপনারা সকলে গর্বিত বোধ করুন। আপনারাও আমার মাধ্যমে এই যাত্রা উপভোগ করতে পারেন।”
শুভাংশুকে অ্যাক্সিওম-৪ মিশনে পাইলট হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাঁর সঙ্গে থাকা ক্রুদের মধ্যে রয়েছেন কমান্ডার পেগি হুইটসন (আমেরিকা), স্লাভোজ উজানস্কি-উইশনিউস্কি (পোল্যান্ড) এবং টিবর কাপু (হাঙ্গেরি)। শুভাংশু মহাকাশ থেকে প্রথম বার্তা পাঠিয়ে বলেছিলেন, “নমস্কার আমার প্রিয় দেশবাসী, কী অসাধারণ এই যাত্রা! ৪১ বছর পর আমরা আবার মহাকাশে।”
শুভাংশু শুক্লা অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে আইএসএসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর ভ্রমণের অভিজ্ঞতা সমগ্র ভারতকে গর্বে ভরিয়ে দিচ্ছে। এক্স-এ @Axiom_Space-এর একটি পোস্টে তিনি মাইক্রোগ্রাভিটিতে ভেসে থাকার সময় পৃথিবীর সৌন্দর্য দেখার আনন্দ ভাগ করে নিয়েছেন সকলের সঙ্গে। শুভাংশু বলেছেন যে এটি শুধু তাঁর একার যাত্রা নয়, এটি ভারতের মহাকাশ কর্মসূচির সূচনা।
Ax-4 Mission | In-Flight Update https://t.co/Lqu0QiGGrA
— Axiom Space (@Axiom_Space) June 26, 2025
মহাকাশযানটি আইএসএস থেকে ৪০০ মিটার দূরে অবস্থিত এবং ভারতীয় সময় বিকেল ৪:৩০ মিনিটে ডকিংয়ের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। ড্রাগনটি ২৮,০০০ কিমি/ঘন্টা বেগে ৪১৮ কিমি উচ্চতায় পৃথিবীর চারপাশ প্রদক্ষিণ করছে। মহাকাশযানটি পৃথিবী থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে কক্ষপথে ঘুরছে। @Axiom_Space on X হ্যান্ডেলে লিখেছে, “Ax-4 মিশন | ইন-ফ্লাইট আপডেট: ক্রুরা শক্তিশালী এবং উত্তেজিত।”
শুভাংশু বলেন যে মহাকাশ ভ্রমণ তার জন্য স্বপ্নের মতো অভিজ্ঞতা। ভারতীয় নভশ্চরের কথায়, “উৎক্ষেপণের পর, যখন আমি পৃথিবীকে দেখলাম, তখন মনে হলো যেন একজন চিত্রশিল্পী নিশ্চয়ই নীল এবং সবুজ মিশিয়ে একটি ক্যানভাস তৈরি করেছেন। মাইক্রোগ্রাভিটিতে ভাসমান মজাদার, কিন্তু শুরুতে একটু অদ্ভুত লেগেছিল। তার কথায় হালকা হাসি আর উত্তেজনা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল।”
শুভাংশু জানান, “উৎক্ষেপণের ১০ মিনিট পর যখন ড্রাগন মহাকাশযানটি রকেট থেকে আলাদা হয়ে যায়, তখন আমি জানালা দিয়ে সূর্যের ঔজ্জ্বল্য এবং তারা দেখতে পাই। এটা আমার কাছে অবিশ্বাস্য ছিল। আমি আমার ক্রুদের সাথে হাসছিলাম, রসিকতা করেছি এবং কিছু যোগব্যায়াম ভঙ্গি করার চেষ্টা করেছি।
শুভাংশু বলেন যে স্ট্র দিয়ে পাউচ থেকে জল পান করা একটু কঠিন, কিন্তু মজাদারও বটে। সেই সঙ্গে জানান তাঁর স্পেস স্যুটে ত্রিবর্ণরঞ্জিত পতাকার রঙ দেখে তিনি ওনুভব করেছেন যে তাঁর সঙ্গে ১.৪ বিলিয়ন মানুষ রয়েছেন।