নিজস্ব প্রতিনিধি, পটনা: অবশেষে ঘুম ভাঙল নীতীশ কুমার সরকারের। দুই সপ্তাহের মধ্যে ১০টি সেতু ভেঙে পড়ার ঘটনায় শুক্রবার একইসঙ্গে ১৬ জন ইঞ্জিনিয়ারকে সাসপেন্ড করল বিহার সরকার। শুধু এখানেই থামেনি তথাকথিত সুশাসন বাবু নীতীশ কুমারের প্রশাসন। সেতু ভেঙে পড়ার ঘটনায় কোনও ঠিকাদার যদি দোষী সাব্যস্ত হন, নতুন সেতু নির্মাণের খরচ পুরোটাই তাঁকে বহন করতে হবে বলে নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
গত কয়েক বছর ধরেই নীতীশ জমানায় বিহারে একের পর এক সেতু ভেঙে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে গত জুন মাসে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। গত ১৮ জুন আরারিয়া জেলায় একটি নির্মীয়মাণ সেতু ভেঙে পড়ে। তার চার দিনের মাথায় ২২ তারিখ সিওয়ানেও একই ভাবে নদীর উপর ভেঙে পড়ে একটি সেতু। তার পর পূর্ব চম্পারন, কিসানগঞ্জ, মধুবনি, মুজফ্ফরপুরে সেতু ভেঙেছে। গত ৩ জুলাই সিওয়ানে তিনটি সেতু এবং সারণে দু’টি সেতু ভেঙে পড়ে। বৃহস্পতিবার সেই তালিকায় নতুন সংযোজন সারণের আরও একটি সেতু।
পর পর সেতু ভেঙে পড়ার ঘটনায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার। তিনি না মুখ খুললেও জেডিইউয়ের অন্যতম শীর্ষ নেতা রাজীবরঞ্জন সিং ওরফে লাল্লন এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জিতনরাম মাজি সেতু ভেঙে পড়ার ঘটনার দায়ভার প্রকৃতির উপরেই চাপিয়েছেন। তবে জলসম্পদ দফতরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব চৈতন্য প্রসাদ সেতু রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা ইঞ্জিনিয়ারদের বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, ‘সেতুগুলি কী অবস্থায় রয়েছে, তা ঠিকমতো নজরদারি চালাননি ইঞ্জিনিয়াররা। ঠিকাদারদেরও গাফিলতি রয়েছে।’ মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয়ের তরফে রাজ্যের পুরনো সেতুগুলি পর্যবেক্ষণের জন্য সমীক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।