নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: খোদ দেশের রাজধানী সংলগ্ন নয়ডায গত পাঁচ বছর ধরে বিজ্ঞাপনের আড়ালে উঠতি মডেলদের ফাঁদে ফেলে নীল ছবির রমরমা ব্যবসা চালাচ্ছিল এক দম্পতি। শেষ পর্যন্ত অতর্কিতে অভিযান চালিয়ে ওই অবৈধ ব্যবসার পর্দাফাঁস করলেন ইডির আধিকারিক। বিভিন্ন নথি ও তথ্য উদ্ধার করে চক্ষু চড়কগাছ হয়ে গিয়েছে তদন্তকারীদের।
ইডির এক আধিকারিক জানিয়েছেন, নয়ডার বাসিন্দা উজ্জ্বল কিশোর এবং তার স্ত্রী নীলু শ্রীবাস্তব গত পাঁচ বছর এক ভুয়ো সংস্থা খুলে বিজ্ঞাপনের আড়ালে নীল ছবির রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। সাইপ্রাস-ভিত্তিক টেকনিয়াস লিমিটেড নামে একটি সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন দুজনে। ওই সংস্থাই এক্সহ্যামস্টার (Xhamster) এবং স্ট্রিপচ্যাট (Stripchat) এর মতো প্রাপ্তবয়স্কদের জনপ্রিয় বিনোদন ওয়েবসাইট পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে। নীল ছবি তৈরির মডেল জোগাড়ে সমাজমাধ্যম বিশেষ করে ফেসবুক ব্যবহার করেছিলেন। তারা ‘echato dot com’ নামে একটি পেজ খুলেছিলেন। যেখানে মডেলিংয়ের সুযোগ এবং লোভনীয় বেতনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হত। এই বিজ্ঞাপনগুলির মাধ্যমে দিল্লি-এনসিআর অঞ্চলের অনেক মহিলাকে প্রলুব্ধ করা হত। অডিশনের জন্য নয়ডায় দম্পতির ফ্ল্যাটে পৌঁছানোর পর, তাদের পর্নোগ্রাফি র্যাকেটে অংশগ্রহণের প্রস্তাব দেওয়া হত। প্রতিশ্রুত পারিশ্রমিকের পরিমাণ ছিল প্রতি মাসে ১ থেকে ২ লক্ষ টাকা। প্রধান অভিযুক্ত উজ্জ্বল কিশোর অতীতেও রাশিয়ায় একই ধরণের র্যাকেটের সাথে জড়িত ছিলেন এবং ভারতে চলে এসে স্ত্রীর সঙ্গে মিলে নীল ছবির ব্যবসা শুরু করেছিলেন।
উজ্জ্বল কিশোরের নয়ডার ফ্ল্যাটে হানা দিয়ে পেশাদার ওয়েবক্যাম স্টুডিও’র খোঁজ পান ইডি আধিকারিকরা। ওই স্টুডিও থেকে অনলিফ্যানস (OnlyFans) -এর মতো প্রাপ্তবয়স্কদের স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে পাওয়া সামগ্রী সম্প্রচার করা হত। অভিযানের সময় তিনজন মহিলা মডেলকে নগ্ন হয়ে স্ক্রিনের অন্য প্রান্তে থাকা পুরুষ খদ্দেরদের সামনে অশালীন আচরণ করে চলছিলেন। ইডি ওই তিন মহিলা মডেলের জবানবন্দিও রেকর্ড করেছে।
সূত্রের খবর, গ্রাহকদের দেওয়া অর্থের উপর ভিত্তি করে মডেলরা কাজ সম্পাদন করেছিলেন। হাফ-ফেস শো, ফুল-ফেস শো এবং সম্পূর্ণ নগ্নতা সহ বিভিন্ন সুবিধা অফার করা হতো। গ্রাহকরা এই পরিষেবা পেতে মোটা অঙ্কের টাকাও দিতেন। প্রথমে ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হতো। ইডি নেদারল্যান্ডসে একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের হদিশ পেয়েছেন যেখানে টেকনিয়াস লিমিটেড কর্তৃক ৭ কোটি টাকা স্থানান্তর করা হয়েছিল। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক ডেবিট কার্ড ব্যবহার করে ভারতে নগদ এই অর্থ তুলে নেওয়া হত। ইডি আধিকারিকদের অনুমান কয়েক হাজার মহিলাকে এই অনলাইন পর্নোগ্রাফির ব্যবসায় ব্যবহার করা হয়েছে।