পৃথ্বীজিৎ চট্টোপাধ্যায়: মহাপ্রভু শ্রী জগন্নাথ সমগ্র জগতের নাথ । তাঁর কাছে ধনী- গরিব, উচ্চ-নিচ, জ্ঞানী-অজ্ঞানী, সকলেই এক। পুরীর শ্রীমন্দিরের সিংহদ্বারে ঢুকতেই ডান দিকে তাঁর এক মূর্তি দেখা যায়। যে মূর্তি মন্দিরের বাইরের রাস্তা থেকে অগণিত ভক্তবৃন্দ প্রণাম করেন। এমনকি প্রচলিত নিয়মানুসারে প্রত্যেকদিন মন্দির খোলার পর প্রথম পুজো হয় তাঁরই। জানেন কি তাঁর নাম ? কেনই বা সেখানে তাঁর ওই মূর্তি?
১৭২৭ খ্রিষ্টাব্দ। জানা যায়, সে সময় খুরদার রাজা ছিলেন দ্বিতীয় রামচন্দ্রদেব। টাকি খান উড়িষ্যার নায়েব নাজিম হয়ে এসেই খুরদা আক্রমণ করলেন। এরপর যদি পুরীর জগন্নাথ মন্দির আক্রমণের কেন্দ্রস্থল হয়ে ওঠে, সে ভয়ে শ্রী জগন্নাথদেব, বলভদ্র ও সুভদ্রার দারুমূর্তি পুরী থেকে গোপনে প্রথমে বনপুর ও পরে টিকলিতে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে এর কিছুদিন পরেই শ্রীমন্দিরে বিগ্রহগুলি পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করা হয়।
এরপর ১৭৩২ খ্রিস্টাব্দে আবারও টাকি খান খুরদা আক্রমন করেন। টাকি খানের পর কটকের নায়েব নাজিম হয়ে আসেন দ্বিতীয় মুর্শিদকুলি খাঁ। এবারে রামচন্দ্রদেব হারানো রাজ্য ফিরে পেতে মরিয়া হয়ে উঠলে মুর্শিদকুলি খাঁ এক শর্ত রাখেন।
শর্ত অনুযায়ী মুর্শিদকুলি খাঁ’র মেয়েকে বিয়ে করলেই হারানো রাজ্য ফিরে পাবেন রামচন্দ্রদেব। শেষ পর্যন্ত এক যবন কন্যাকে বিয়ে করতে হবে জেনে দুশ্চিন্তায় পড়েন তিনি। কারণ, মুর্শিদকুলি খাঁ’র মেয়েকে বিয়ে করলে রামচন্দ্রদেব কখনও আর পুরীর মন্দিরে প্রবেশের অনুমতি পাবেন না। এমনকি, জগন্নাথদেবের প্রধান সেবক হওয়ার গৌরবও হারাবেন তিনি। অনেক ভেবে চিন্তে তিনি মুর্শিদকুলির প্রস্তাবই মেনে নেন ও তার কন্যাকে বিয়ে করেন। এরপর থেকে শ্রীমন্দিরে রামচন্দ্রদেবের প্রবেশ চিরতরে বন্ধ হয়ে গেল।
মহাপ্রভু শ্রী জগন্নাথকে দর্শন করতে না পেরে ভক্তপ্রাণ রামচন্দ্রদেব খুবই মনকষ্টে ভুগছিলেন। তারপরই সিংহদ্বারে প্রতিষ্ঠা করা হয় জগন্নাথ দেবের এই পতিতপাবন মূর্তি, যাতে রামচন্দ্রদেব শ্রীমন্দিরের বাইরে থেকেই শ্রী জগন্নাথকে দর্শন করতে পারেন। হিন্দু নয়, এমন যে কোনও ধর্মের মানুষও জগন্নাথ মন্দিরের সিংহদ্বারের সামনে দাঁড়িয়ে পতিতপাবন’কে দর্শন করতে পারেন।মহাপ্রভু শ্রী জগন্নাথ সমাজে সকল পতিতদের উদ্ধার করেন বলেই তিনি হলেন “পতিতপাবন।”
জগন্নাথ স্বামী নয়নপথ গামী ভবতু মে।।