নিজস্ব প্রতিনিধি : অভাবের সংসার, শেষকৃত্য শেষ করার জন্য হাতে নেই অর্থ। তাই বাধ্য হয়ে মায়ের মৃতদেহ আগলে বসে রইল দুই মেয়ে। মৃতার নাম সি ললিতা। বেশ কিছুদিন ধরেই তিনি শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। গত সপ্তাহে তাঁর মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর পর দেহের সৎকার না করেই ওই বাড়িতে বসবাস করছিলেন মৃতার দুই মেয়ে। ঘটনাটি ঘটেছে তেলেঙ্গানার সেকেন্দ্রাবাদে। ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছেছে পুলিশ আধিকারিকরা। পুরো বিয়টি খতিয়ে দেখছে তাঁরা।
প্রতিবেশীরা জানান বেশ কিছু দিন ওই বাড়ি থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল। এমন পচা দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল যে বমি হয়ে যাবার জোগাড়। এরপর তাদের সন্দেহ আরও বাড়ে। সঙ্গে সঙ্গে তারা পুলিশে খবর দেন। এরপরই তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
তদন্তকরীরা জানিয়েছেন, খবর পেয়ে তাঁরা ঘটনাস্থলে পৌঁছোন। বন্ধ একটি ঘর থেকে বাজে দুর্গন্ধ ভেসে আসে। এরপর ওই বন্ধ ঘর থেকে ললিতার পচাগলা দেহ উদ্ধার করেন। একইসঙ্গে পুলিশ আরও জানিয়েছে, প্রায় ১০ দিন ধরে মৃতদেহটি ঘরের মধ্যেই পড়েছিল। ওই মৃতদেহটির সঙ্গেই দিন কাটাচ্ছিলেন দুই বোন। অবশেষে মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ললিতার একজন মেয়ের নাম ২৫ বছর বয়সী রাভালিকা অন্যজন হল ২২ বছর বয়সী অশভিতা। রাভালিকা একটি শাড়ির দোকানে কাজ করেন। অশভিতা পেশায় একজন ‘ইভেন্ট প্ল্যানার’।
উল্লেখ্য ললিতার স্বামী ২০২০ সালে পরিবারিক বিবাদের জেরে বাড়ি ছেড়ে চলে যান। তারপর থেকেই বাড়িতে আর্থিক অভাব অনটন শুরু হয়। তাদের মা ললিতা সংসার চালাতে হিমশিম খেত। এভাবেই দিন কাটছিল। হঠাৎ ললিতার মৃত্যু হয়। এদিকে শেকৃত্যের জন্য টাকা জোগাড় করতে না পেরে মৃতদেহ ওইভাবেই ফেলে রেখে দেয় দুই বোন। স্থানীয়দের সন্দেহ হতে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।