নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: সেনা প্রধান ওয়াকার-উজ-জামানের চাপের কাছে নতিস্বীকার করলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূস। সেনাবাহিনীকে যে বিশেষ ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার দেওয়া হয়েছিল, তার মেয়াদ বাড়ছে। সেই সঙ্গে বাংলাদেশ সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিজিবি) এবং উপকূল রক্ষী বাহিনীর (কোস্টগার্ড) হাতেও বিচার ক্ষমতা তুলে দেওয়া হচ্ছে। মূলত, ভোটের দাবিতে যাতে বিএনপি-সহ রাজনৈতিক দলগুলি কোনও আন্দোলন করতে না পারে, তার জন্য এমন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
গত রবিবারই আচমকা তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে ছুটে গিয়েছিলেন সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান। দু’জনের বৈঠক নিয়ে এই প্রথম সেনাবাহিনীর জনসংযোগ দফতরের তরফে কোনও প্রেস বিবৃতি দেওয়া হয়নি। যার ফলে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সেনা প্রধানের বৈঠকের বিষয়বস্তু নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছিল। যদিও বৈঠকের পরেই ‘এই মুহুর্তে’ অনলাইন জানিয়েছিল, সেনাবাহিনীকে দেওয়া বিশেষ ক্ষমতার মেয়াদ বাড়ানোর জন্য মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূসকে চাপ দিয়েছেন ওয়াকার-উজ-জামান। সেই সংবাদেই এদিন সিলমোহর দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা তথা প্রাক্তন সেনা আধিকারিক জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) বরিশালে এক অনুষ্ঠানে তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তার জন্য সশস্ত্র বাহিনীকে ২ মাসের জন্য ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার দেওয়া হয়েছিল। যার মেয়াদ বৃদ্ধি করা হবে এবং এতে বিজিবি ও কোস্টগার্ডকে অন্তর্ভুক্ত করার চিন্তা-ভাবনা সরকারের রয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ারের ফলে সেনাবাহিনী যে কোনও ব্যক্তিকে গ্রেফতার এবং যে কোনও জায়গায় তল্লাশির অধিকার পেয়েছিল। সেপ্টেম্বর মাসে দেওয়া ওই ক্ষমতা কয়েকদিনের মধ্যেই শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেনা আধিকারিক এবং সদস্যরা ব্যারাকে ফিরে যেতে রাজি হচ্ছেন না। বরং বিশেষ ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ারকে কাজে লাগিয়ে লাগামহীন তোলাবাজি চালিয়ে যেতে চান।