নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরে রচিত সংবিধান বাতিল ও আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূসকে ১৫ দিনের সময় বেঁধে দিল রাজাকারদের সংগঠন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। আজ মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের সমাবেশ থেকে ওই সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৫ জানুয়ারির মধ্যে মোল্লা ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান বাতিল করে ইসলামি সংবিধান চালু না করলে ওই দিনই রাজাকারদের তরফ থেকে তা করা হবে বলে হুঙ্কার ছাড়া হয়েছে। শুধু সংবিধান বাতিল করলেই হবে না, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী আওয়ামী লীগ সরকারকেও নিষিদ্ধ করার জন্য সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের পরিকল্পনা মোতাবেক এদিন শহীদ মিনারে এক জমায়েতের আয়োজন করেছিল নব্য রাজাকারদের সংগঠন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। সংগঠনের নেতা তথা কুখ্যাত জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহরীর শীর্ষ পদাধিকারী হাসনাত আবদুল্লাহ জানিয়েছিলেন, সমাবেশেই মুজিববাদী সংবিধানকে কবর দেওয়া হবে। যদিও স্বাধীনতার মাধ্যমে অর্জিত সংবিধানকে কবর দেওয়ার হুঙ্কারকে ভালভাবে মেনে নেয়নি বিএনপি-সহ দেশের সিংহভাগ রাজনৈতিক দলের নেতা ও মুক্তিযোদ্ধারা। তাঁরাও পাল্টা হুঙ্কার ছাড়েন। এই পরিস্থিতিতে মোল্লা ইউনূস সরকারের তরফে প্রথমে জানানো হয়, ৩১ ডিসেম্বর শহীদ মিনার থেকে যে ঘোষণা করা হবে, তার সঙ্গে সরকারের কোনও সম্পর্ক নেই।
কিন্তু ২৪ ঘন্টা যেতে না যেতেই ডিগবাজি খেয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের তরফে ঘোষণা করা হয়, ‘সংবিধান বাতিল ও আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের বিষয়ে বিশেষ ঘোষণা করা হবে। সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলে ওই ঘোষণা করা হবে।’ পূর্ব ঘোষণা মতোই এদিন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জড়ো হয়েছিল রাজাকার বাহিনী। সভায় ভিড় জমিয়েছিলেন একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী আল বদর, আল শামস ও জামায়াত ইসলামীর নেতা-কর্মীরা। সমাবেশে নব্য রাজাকার বাহিনীর নেতা হাসনাত আবদুল্লাও জানান, ‘সরকার যেহেতু জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র জারি করার আশ্বাস দিয়েছে, তাই আমরা আজ কোনও ঘোষণা করছি না। ১৫ জানুয়ারির মধ্যে সরকারকে ১৯৭২ সালের সংবিধান বাতিলের ঘোষণা করতে হবে। বাংলাদেশ মুসলিম প্রধান রাষ্ট্র। তাই এ দেশে শরিয়াহ রীতি-নীতি মেনে সংবিধান চালু করতে হবে। সেই সঙ্গে আওয়ামী লীগকে রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না, তেমন ঘোষণা করতে হবে। ১৫ জানুয়ারি সরকারের তরফে যদি এই ঘোষণা না করা হয়, তাহলে ওই দিনই আমরা সংবিধান বাতিল ও আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা করব।’