নিজস্ব প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম: বাংলাদেশে ক্ষমতার পালাবদলের পরে হিন্দুদের উপরে নৃশংস নির্যাতন নিয়ে তিনি সরব হয়েছিলেন। রাজপথে নেমে প্রতিবাদও জানিয়েছিলেন। এবার সেই আন্তর্জাতিক শ্রীকৃষ্ণ ভাবনামৃত সংঘের (ইসকন) আলোচিত সংগঠক চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর বিরুদ্ধে দায়ের হল রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা। শুধু চিন্ময় দাস-ই নন, আরও ১৮ জন হিন্দু নেতার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। গতকাল বুধবার (৩০ অক্টোবর) রাতে মোহাম্মদ ফিরোজ খান নামে এক ব্যক্তি চট্টগ্রামের কোতোয়ালী থানায় মামলা দায়ের করেছেন। আর মামলা দায়ের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নজিরবিহীন তৎপরতায় দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গত ৫ অগস্ট শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যূত হওয়ার পরে বাংলাদেশ জুড়ে হিন্দু নিধন যজ্ঞে ঝাঁপিয়ে পড়ে জামায়াত ইসলামী-সহ বিভিন্ন ইসলামি জেহাদি সংগঠনের জঙ্গিরা। অবাধে চলে হিন্দুদের ঘরবাড়ি-ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও মন্দিরে ভাঙচুর ও লুঠ। ভিটেমাটি ছাড়া হতে হয় কয়েক হাজার হিন্দু পরিবারকে। হিন্দুদের উপরে ওই লাগামহীন অত্যাচার নিয়ে সবচেয়ে বেশি সরব হন ইসকনের চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও পুণ্ডরীক্ষ ধাম মন্দিরের অধ্যক্ষ চন্দন কুমার ধর ওরফে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী (৩৮)। তাঁরই উদ্যোগে সনাতন জাগরণ মঞ্চের ব্যানারে গত ২৫ অক্টোবর চট্টগ্রামের লালদিঘী মাঠে মহাসমাবেশ হয়। ওই সমাবেশে , লক্ষাধিক সনাতন ধর্মাবলম্বী অংশ নিয়েছিলেন। সমাবেশ থেকে দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও জেলায় সমাবেশ এবং ঢাকা অভিমুখে লংমার্চের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
আর তাতেই গোঁসা হয় মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূসের জমানায় বাঙ্গিস্তানে পরিণত হওয়া বাংলাদেশের ইসলামি জিহাদিদের। সবক শেখাতে গতকাল বুধবার রাতে দেশদ্রোহিতার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের হয় চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী-সহ একাধিক হিন্দু নেতার বিরুদ্ধে। এদিন সকালে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার তারেক আজিজ জানান, চিন্ময় দাস ব্রহ্মচারীর পাশাপাশি ট্টগ্রামের হিন্দু জাগরণ মঞ্চের সমন্বয়ক অজয় দত্ত (৩৪), প্রবর্তক ইসকন মন্দিরের অধ্যক্ষ লীলা রাজ দাশ ব্রহ্মচারী সহ আরও একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে।