নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: ফের বাংলাদেশে অশান্তির আগুন। হিন্দু মন্দির ভাঙচুর। কোটা সংস্কার আন্দোলনের রেশ কমতে না কমতেই বাংলাদেশে ফের হিন্দু মন্দির ভাঙচুর। আসলে কোটা সংস্কার আন্দোলন রুখতেই বাংলাদেশ বন্যার কবলে। আর বাংলাদেশে বন্যার জল ঢুকে পড়ার কারণ হিসেবে একদল মানুষ বলেছেন, ভারত থেকে ইচ্ছে করে জল ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। আর তাতেই বাংলাদেশ জলমগ্ন। ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে, এবং তাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কয়েক লাখ মানুষ। এবার ভারতের উপর প্রতিশোধ তুলতেই বাংলাদেশের রাজশাহীতে একটি হিন্দু মন্দিরে হামলা চালাল ২৫ বছর বয়সী একজন যুবক।
সূত্র অনুযায়ী, রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় একটি হিন্দু মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় এক যুবককে আটক করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছিল, শুক্রবার রাতে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার কালিগ্রাম দুর্গা মন্দিরে। মন্দিরের ভেতরে ঢুকে প্রতিমা ভাঙচুরের সময় যুবকটিকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছেন উপজেলা থানার পুলিশ। অভিযুক্ত বাপ্পি হোসেন (২৫), বাঘা পৌরসভার কলিগ্রামের মিঞাপাড়া গ্রামের জমসেদ আলী ভেগলের ছেলে। জানা গিয়েছে, বাপ্পি মাদ্রাসায় লেখাপড়া শেষ করে দুই বছর ধরে বাড়িতেই বসে আছেন। মাঝেমধ্যে রিকশাভ্যান চালান। মন্দির ভাঙচুরের ঘটনায় উপজেলার কলিগ্রাম সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরের সভাপতি অরুন সরকার অপরাধীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। এবং ঘটনার সময়েই এলাকার কিছু মানুষ তাঁকে হাতেনাতে ধরে ফেলে।
তাঁর অভিযোগ, সকাল ৬টার দিকে মন্দিরের তালা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করেন বাপ্পি। ঢুকেই তিনি প্রতিমা ভাঙচুর করতে শুরু করেন। তখনই স্থানীয়রা দেখতে পেয়ে তাকে আটক করেন। আর তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতেই অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে খবর। পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার ভোরে পাকুড়িয়া ইউনিয়নের পালপাড়া, ঘোষপাড়া ও বাঘা পৌরসভার কলিগ্রাম সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরের তালা ভেঙে বাপ্পি মন্দিরের ভেতরে ঢুকে করে প্রতিমা ভাঙচুর করেছেন। তখনই হাতে-নাতে আটক করে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন। পরে তারা বাপ্পিকে পুলিশে হস্তান্তর করেন।
এ প্রসঙ্গে বাঘা থানার ওসি আবু সিদ্দিক বলেছেন, “প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাপ্পি মন্দিরের তালা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে প্রতিমা ভাঙচুর করার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, আবেগের বশে সে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। তিনি বোনের ফোনে দেখেছেন, ভারত থেকে জল ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এ কারণে বাংলাদেশের মানুষ বন্যার জলে ডুবে যাচ্ছে। এই ভিডিও দেখে তিনি সারারাত ঘুমাতে পারেননি। তাই আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে তিনি হিন্দু মন্দিরে হামলা চালায় এবং মন্দির ভাঙচুর করে। তবে এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছেন কিনা তা তদন্ত করছে পুলিশ। পাশাপাশি হিন্দু মন্দিরগুলোতে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে।