নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: ওদের অপরাধ বৃহস্পতিবার জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা জানাতে ৩২ নম্বর ধানমন্ডির বাড়িতে গিয়েছিল। সেই অপরাধে আওয়ামী লীগের যুব শাখার ৯ মহিলা সদস্যকে বিবস্ত্র করে হাঁটাল কোটা আন্দোলনকারীরা।আর পুরো ঘটনাই ঘটেছে সেনা ও পুলিশের চোখের সামনে। অনেক পথচারী ওই ঘটনা দেখে স্তম্ভিত হয়ে যান। কেউ-কেউ লজ্জাজনক ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে মারধরের শিকার হয়েছেন। তাদেরও বিবস্ত্র করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, ঘটনাস্থলে থাকা সাংবাদিকদের ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন থেকে ওই লজ্জাজনক ঘটনার ভিডিও হুমকি দিয়ে মুছতে বাধ্য করা হয়েছে। আর ওই গোটা ঘটনার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন কোটা আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক সারজিস আলম। অথচ সমাজমাধ্যমে ওই ঘটনা নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠতেই শুক্রবার অভিযুক্ত সারজিস সাধু পুরুষ সেজে জানিয়েছেন, যারা ওই ঘটনা ঘটিয়েছেন তারা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কোনও সদস্য যুক্ত থাকলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বুধবারই এক সমাবেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক তথা জামায়েতের ছাত্র সংগঠন ছাত্র শিবিরের শীর্ষ দুই নেতা সারজিস আলম ও হাসনাত আবদুল্লাহ হুমকি দিয়েছিলেন, ৩২ নম্বর ধানমন্ডিতে বঙ্গবধুর বাড়িতে কেউ হাজির হলে পিষে মেরে ফেলা হবে। তার খানিকক্ষণের মধ্যে্ই ধানমন্ডির বাড়িতে হাজির হয় কয়েকশো কোটা আন্দোলনকারী। সশস্ত্র অবস্থায় হাজির হয় তারা। সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে কোটা আন্দোলনকারীদের হাতে নিগৃহীত হন অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচী। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই নারকীয় তাণ্ডব শুরু করে সারজিস আলমের নেতৃত্বে কোটা আন্দোলনকারীরা।
বঙ্গবন্ধুর বাড়ির সামনে যাদের দেখেছে, তাদেরই ধরে বেঁধে মারধর করেছে। বিবস্ত্র করে কান ধরে ওঠবোস করানো হয়েছে। রেহাই পায়নি মহিলা, শিশুরাও। আবহনী ক্লাবের মাঠের পাশ দিয়ে বত্রিশ নম্বরে আসার সমায় মারধরের শিকার হন যুব মহিলালীগের সদস্যরা। কোনও ক্রমে পালিয়ে বেঁচে যাওয়া এক নেত্রী জানিয়েছেন, প্রথমে তাদের ঘিরে ধরা হয়। তার পরে বিবস্ত্র করা হয়। সেই সঙ্গে চলে মারধর। একজনকে তুলে নিয়ে মডেল কলেজে নিয়ে গিয়ে যৌন নির্যাতন চালানো হয়। কোটা আন্দোলনকারীদের মারধরের হাত থেকে রেহাই পাননি বীর মুক্তিযোদ্ধা কাদের সিদ্দিকীও। তাকে মারধরের পাশাপাশি তার গাড়িও ভাঙচুর করা হয়। দিনভর তাণ্ডব চালানোর পাশাপাশি ৯ মহিলা-সহ ৩০ জনকে মডেল কলেজে আটকে রেখে নির্যাতন চালানো হয়। সমাজমাধ্যমে ওই ঘটনা নিয়ে নিন্দার ঝড় ওঠার পরে রাতে চাপে পড়ে সেনাবাহিনীর একটি দল মডেল কলেজ থেকে ৩০ জনকে উদ্ধার করে।