নিজস্ব প্রতিনিধি : চলে এসেছে নতুন বছর। আর নতুন বছরকে এক এক করে স্বাগত জানিয়ে নিচ্ছে বিশ্ববাসীরা। নতুন বছর উদযাপন উপলক্ষে আতশবাজি ও পটকা ফাটানো নিষিদ্ধ করেছিল বাংলাদেশ অন্তর্বর্তী সরকার। তবে সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে শহরের বিভিন্ন এলাকায় চলছে পটকা ফাটানোর উৎসব।দেদার বাজি পোড়ানো থেকে শুরু করে, বসল মদের আসর।
মঙ্গলবার রাত ১২টা বাজার সঙ্গে সঙ্গে আতশবাজিতে কেঁপে উঠে সমগ্ৰ নগরী। আতশবাজির ছটায় ভরে উঠে রাতের আকাশ। নববর্ষের শুরুতে আতশবাজির পাশাপাশি, ফানুস উড়ানো ও উচ্চস্বরে গান বাজানো ও প্রায় বাড়ির ছাদে রাতভর চলেছে ডিজে পার্টির উন্মাদনা। এতে শিশু ও হার্টের রোগীদের ঘুম গিয়েছে উড়ে। নাজেহালের আর শেষ নেই।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, আতশবাজি ও পটকা ফাটানো নিষিদ্ধ থাকলেও সেগুলোর প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রশাসনের কোনও তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়নি। পুলিশের টহলও তেমন দেখা যায়নি বলে জানিয়েছেন ঢাকার বিভিন্ন এলাকার মানুষ। ফলে নির্বিচারে এলাকাগুলোতে পটকা ও আতশবাজি ফোটানো হচ্ছে। সাধারণ মানুষের কথা ভাবা হচ্ছে না। এই নিয়ে প্রশাসন কোন তৎপরতাই দেখায় নি বলে অভিযোগও উঠেছে।
একজন গৃহবধূর কথায় উঠে এল বিস্বাদের সুর। তিনি বলেন, ইংরেজি নববর্ষ বাংলাদেশের কোন সংস্কৃতির অংশ না হলেও প্রতিবছর উশৃঙ্খল তরুণ যুবকরা মেতে উঠে আতশবাজি ও ডিজে পার্টি নামে অশ্লীল নৃত্য এবং মাদকের আসরে। এদের উচ্চ শব্দের আতশবাজি এবং গানের কারণে ছোট শিশুরা প্রায়ই ভয় পেয়ে ঘুম থেকে উঠে যায়। তাছাড়া বেশি বিপাকে পড়ে রোগীরা।
এদিকে থার্টি ফার্স্ট নাইট ও খ্রিষ্টীয় নববর্ষ ২০২৫ উপলক্ষে ঢাকা মহানগর এলাকায় যেকোনো ধরনের আতশবাজি, পটকা ফোটানো ও ফানুস ওড়ানো নিষিদ্ধ করেছিল ঢাকা মহানগর পুলিশ(ডিএমপি)।কিন্তু সেই নির্দেশকে অমান্য করে দেদাচ চলছে আতশবাজি ফাটানো।
এদিকে সাধারণ মানুষ এই অতিরিক্ত শব্দের কারণে বিরক্তি প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক এবং অসুস্থ ব্যক্তিরা এতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অনেকে সামাজিক মাধ্যমে এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্তব্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।