নিজস্ব প্রতিনিধি, বগুড়া: আনন্দ নিমিষেই বদলে গেল বিষাদে। পুণ্যের লোভে রথযাত্রার মিছিলে সামিল হতে গিয়ে বেঘোরে প্রাণ হারালেন পাঁচ পুণ্য লোভাতুর। রথের চূড়ার সঙ্গে বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে লাগা আগুনে ঝলসে মৃত্যু হয়েছে তাঁদের। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর জখম হয়েছেন আরও ৩০ জনের মতো। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালের তরফে জানানো হয়েছে আহতদের বেশ কয়েকজনের অবস্থা সঙ্কটজনক। রবিবার মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে বগুড়ার সেউজগুড়ির আমতলা মোড়ে। ঘটনার জন্য রথযাত্রার আয়োজকদের দায়িত্বজ্ঞানহীনতাকে কাঠগড়ায় তুলেছেন বগুড়ার জেলাশাসক মহম্মদ সাইফুল ইসলাম।
পুলিশ জানিয়েছে, রথযাত্রা উপলক্ষে প্রতিবছরের মতো এবারও বগুড়ার সেউজগাড়ির ইসকন মন্দির থেকে রথ বের করা হয়। বিকেল পাঁচটার দিকে বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য রাগেবুল আহসান, জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম ও পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তী রথযাত্রার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। তার পরেই পুলিশ লাইন সংলগ্ন শিবমন্দিরের উদ্দেশে রওনা হয় রথটি। হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রচুর মানুষ শোভাযাত্রায় সামিল হয়েছিলেন। মিনিট ১৫ পরে আমতলা মোড়ের কাছে পৌঁছতেই হাই ভোল্টেজ তারের সংস্পর্শে আসে রথের চূড়ো। নিমিষেই আগুন ধরে যায়। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ছিটকে পড়েন রথে থাকা একাধিক পুণ্যার্থী।
তড়িঘড়ি আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পাঁচ জনকে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। তার মধ্যে চার জনের পরিচয় শনাক্ত করা গিয়েছে। বাকি একজনের পরিচয় জানা যায়নি। মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ বিভাগের কোনও গাফিলতি ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখতে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠিত হয়েছে। নিহতদের শেষকৃত্যের জন্য জেলা প্রশাসনের তরফে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে।