নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: শেখ হাসিনা জমানার অবসানের পরেই বাংলাদেশ জুড়ে শুরু হয়েছে হিন্দু নিধন যজ্ঞ। গত কয়েকদিন ধরে দেশের বিভিন্ন জায়গায় হিন্দুদের মন্দির এবং বাড়িঘরে ভাঙচুর চালিয়েছে বিএনপি ও জামায়েত সন্ত্রাসীরা। ওই নির্যাতনের প্রতিবাদে গত শুক্রবার থেকেই পথে নেমেছেন হিন্দুরা। রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা-সহ একাধিক শহরে বিক্ষোভ মিছিলে উত্তাল করেছে রাজপথ। এবার হিন্দুদের ক্ষোভ নিরসনে উদ্যোগী হল অন্তর্বর্তী সরকার। আজ সোমবার বিভিন্ন হিন্দু সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের উপদেষ্টা তথা প্রাক্তন সেনা কর্তা সাখাওয়াত হোসেন। বৈঠক শেষে তিনি জানিয়েছেন, আসন্ন দুর্গাপুজোয় যাতে তিন দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়, সেই সুপারিশ করা হবে জনপ্রশাসন মন্ত্রকের কাছে।
বর্তমানে বাংলাদেশে দুর্গাপুজো উপলক্ষে মাত্র একদিনের সাধারণ ছুটি চালু রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই হিন্দু সম্প্রদায়ের তরফে ওই ছুটি বাড়ানোর দাবি জানানো হয়েছিল। সংখ্যাডগু প্রেমী হিসাবে পরিচিত শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন একাধিকবার তাঁর সঙ্গে দেখা করে দুর্গাপুজোয় ছুটি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছিলেন হিন্দু সংগঠনের নেতারা। কিন্তু সেই দাবি পূরণ হয়নি।
তবে জমানা বদলের পরে এবার হিন্দুদের সেই দাবি পূরণের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। অত্যাচারিত হিন্দু সম্প্রদায় যাতে নির্যাতন বিরোধী আন্দোলন থেকে সরে আসেন তার জন্য দুর্গাপুজোয় তিন দিনের ছুটি দেওয়ার পক্ষে সওয়াল করেছেন খোদ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেন। হিন্দু সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘হিন্দু সংগঠনের নেতারা দুর্গাপুজোয় তিন দিন ছুটির দাবি জানিয়েছেন। আমি সুপারিশ করব- অন্তত দুর্গাপূজায় তিন দিন ছুটি দেওয়া হোক। তিনদিন না হলে যাতে কমপক্ষে দুদিন ছুটি হয়।’ আসন্ন জন্মাষ্টমীর সময় হিন্দুদের উপরে আক্রমণ ঠেকাতে কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।’