নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: ‘মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী’ মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে বাংলাদেশে শুরু হয়েছে তালিবানি রাজত্ব। আর সেই তালিবানি রাজত্বে দেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো চরম অপরাধ বলে নিদান দিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। সেই নিদান অগ্রাহ্য করে বঙ্গবন্ধুর ৩২ ধানমন্ডির বাড়িতে গিয়ে ‘তালিবানিদের’ হাতে আক্রান্ত হয়েছেন অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচী-সহ একাধিক আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী। উন্মত্ত জনতার গণধর্ষণের হাত থেকে কোনও রকমে পালিয়ে বেঁচেছেন অভিনেত্রী। তবে বেশ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীকে বেঁধে পেটানো হয়। আর পুরো ঘটনাই দাঁড়িয়ে দেখেছে পুলিশ-বিজিবি-র্যাব।
গত ১৩ অগস্ট মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। এমনকি ১৫ অগস্টের জাতীয় শোক উপলক্ষে সরকারি ছুটি বাতিল করেছে। তবুও এক বুক সাহস নিয়ে বুধবার সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধুর ধানমন্ডির পোড়া বাড়িতে হাজির হয়েছিলেন অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচী। মোমবাতি জালিয়ে জাতির জনকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন তাঁরা। ঠিক তখনই কোটা আন্দোলনের সমন্বয়ক সারজিশ আলমের নেতৃত্বে দুষ্কৃতীরা চড়াও হয় তাঁদের উপরে। রোকেয়া প্রাচীর শ্লীলতাহানির চেষ্টা চলে। সেই সময়ে বেশ কয়েকজন ঝাঁপিয়ে পড়ে অভিনেত্রীকে নিরাপদে বের করে নেন।
কেউ যাতে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ধানমন্ডির বাড়িতে পা রাখার সাহস না পায় তার জন্য বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই লাঠি-তরবারি-অস্ত্র হাতে পুরো বাড়ি ঘিরে রাখে জামায়েত ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ছাত্র শিবির ও বিএনপির ছাত্র সংগঠন ছাত্র দলের সশস্ত্র ক্যাডাররা। সকালে বেশ কয়েকজন আওয়ামী লীগ কর্মী ওই বাড়িতে শ্রদ্ধা জানাতে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের বেঁধে গণপ্রহার শুরু হয়। হাতের সুখ মিটিয়ে পুলিশের হাতে তাদের তুলে দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের ডেকে এনে সেই ছবি সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থা করেন কোটা আন্দোলনের সমন্বয়ক তথা বঙ্গবন্ধুর বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার হোতা হাসনাত আবদুল্লা। ওই ছবি দেখার পরে ধানমন্ডির বাড়িতে পা রাখার সাহস দেখাননি বঙ্গবন্ধুর অনুরাগীরা।