নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: মঙ্গলবার দুপুরে আরামবাগে পৌঁছে নিজের হাতে বন্যা দুর্গতদের খাবার বিতরণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়(CM Mamta Banerjee)। খতিয়ে দেখলেন সেখানকার বন্যা পরিস্থিতি। সারি দিয়ে বসে থাকা বন্যা দুর্গতদের তালপাতার থালায় খিচুড়ি নিজে বালতি থেকে হাতা দিয়ে পরিবেশন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীকে এত কাছে এভাবে পেয়ে আপ্লুত আরামবাগের সাধারণ মানুষজন। এরপর সেখান থেকে গোঘাটে ত্রাণ শিবিরে যান মুখ্যমন্ত্রী। তারপর যান কামারপুকুরে। সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ফের বাংলা ভাষার অপমান নিয়ে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
কামারপুকুর এ যাওয়ার আগে তিনি মঙ্গলবার দুপুরে আগে যান আরামবাগে ও গোঘাটে। সেখানে ডিভিসির জলে যারা ঘরবাড়ি ছেড়ে ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন তাদের মধ্যে ত্রাণ বিলি করেন। এরপর কামারপুকুরে(Kamarpukur) রামকৃষ্ণ মিশনের নতুন অতিথি নিবাসের উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন,আমাদের মধ্যে কোন ভাগাভাগি নেই। কামারপুকুরে নতুন অতিথি নিবাস ও পার্কিংয়ের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করেন মুখ্যমন্ত্রী। বাংলা ভাষায় অপমান নিয়ে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী বলেন বলচ্ছে বাংলা ভাষা বলে নাকি কোন ভাষা নেই।
সিস্টার নিবেদিতাকে সবাই ভুলে গিয়েছিল কিন্তু তার বাড়িটাকে আমি অধিগ্রহণ করে দিয়েছিলাম। তার বাড়িতে হেরিটেজ ঘোষণা করেছি। তার বাড়ির স্মৃতি নষ্ট হতে দিইনি। স্বামী বিবেকানন্দের বাড়ি নতুন করে করে দেওয়া হয়েছে। দখল হওয়া থেকে মুক্ত করেছি। স্বামীজি বলতেন একতাই শক্তি বাংলা ছাড়া ভারত পৃথিবী হয় না। শ্রী রামকৃষ্ণর সর্বধর্ম সমন্বয়ে আমি বিশ্বাস করি। এই ভাবেই মঙ্গলবার বিজেপির নাম না করে কেন্দ্রে থাকা গেরুয়া শিবিরকে রাজনৈতিক নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ।নিম্নচাপের বৃষ্টি আর ডিভিসির ছাড়া জলে হুগলি জেলার আরামবাগ ও গোঘাটের বহু এলাকায় প্লাবিত হয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যে। প্রতিবছরের মতো এ বছরও হুগলির বিভিন্ন এলাকার জলের তলায় চলে গিয়েছে। সেই পরিস্থিতি দেখতে মঙ্গলবার দুপুরে আরামবাগে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সড়ক পথে তিনি সেখানে পৌঁছন।
আরামবাগ(Arambag) এবং গোঘাট(Goghat)- এর দুর্গতদের নিজে খাবার পরিবেশন করেন ত্রাণ শিবিরে গিয়ে। গত বছরের মুখ্যমন্ত্রী আরামবাগ এবং ঘাটালে বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে গিয়েছিলেন। এদিকে আরামবাগে দ্বারকেশ্বর নদীর জল স্তর ক্রমশ বাড়ছে ।আরামবাগের পাঁচটি গ্রাম পঞ্চায়েতের বারটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে । খানাকুলের চারটি গ্রাম পঞ্চায়েতের ২২ টি গ্রাম জলের তলায় চলে গিয়েছে। আরামবাগ খানাকুল ছাড়াও পুড়শুড়ার তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় বিভিন্ন গ্রাম চাষের জমি সব জলমগ্ন হয়ে গিয়েছে। এর ওপরেই নদীতে হু হু করে বাড়ছে জলস্তর। বহু মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছেন ত্রাণ শিবিরে।