নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাংলাদেশি মডেল অভিনেত্রী শান্তা পাল কাণ্ডে গ্রেফতার ১। ধৃত ব্যক্তির নাম সৌমিক দত্ত। ৩৬ বছর বয়সী এই যুবক নৈহাটির বাসিন্দা। জানা গিয়েছে শান্তা পালকে জাল নথি তৈরি করে দিয়েছিল এই সৌমিক। ভুয়ো ভারতিয় পরিচয়পত্র বানিয়ে দিয়ে ওই বাংলাদেশি মডেল অভিনেত্রী শান্তাকে কলকাতায় থাকতে সাহায্য করেছিল সে। জাল নথি তৈরিতে সাহায্যের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে সৌমিক দত্তকে। এর ফলে প্রমাণিত যে রাজ্যে ভুয়ো নথি তৈরির তৈরির রমরমা কারবার চলছে। সৌমিক দত্তকে ব্যাঙ্কশাল কোর্টে মঙ্গলবার হাজির করার কথা।
বাংলাদেশের মডেল শান্তা পাল এই মুহূর্তে শিরোনামে। তিনি বাংলাদেশের বাসিন্দা হয়েও ভারতে থাকতেন। ভুয়ো আধার কার্ড দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার যাদবপুরের বিজয়গরে ফ্ল্যাট ভাড়া করে থাকতেন শান্তা পাল। ইতিমধ্যেই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শান্তা পালের আসল পরিচয় জানতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সবুজবাগ থানার সাহায্য নিয়েছে লালবাজার। ২০২৩ সালের মে মাসে সবুজবাগ থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন তিনি। সেখানে উল্লেখ ছিল দুটি ঠিকানার। একটি ঠিকানা ঢাকার, অন্যটি কুমিল্লার। সেই নথিকে ভিত্তি করেই তথ্য প্রমাণ জোগাড়ে তৎপর হয়েছে গোয়েন্দারা।
বাংলাদেশে শান্তা মডেল হিসাবে কাজ করতেন। একাধিক বাংলাদেশি সিনেমাতে অভিনয়ের পর তিনি নাকি ভারতে চলে এসে তেলুগু ছবিতেও কাজ করেন। ২০১৯ সালে সুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন শান্তা পাল। যাদবপুরের বিজয়গড় এলাকায় একটি ফ্ল্যাটে একাই থাকতেন শান্তা। তিনি নিজেকে দাবি করতেন মডেল অভিনেত্রী বলে। কিন্তু পার্কস্ট্রিট থানায় তাঁর বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। তাতে লেখা ছিল যে শান্তা অবৈধভাবে ভারতে রয়েছেন। এরপরে হয় পুলিশ তল্লাশি। শান্তা পালের ফ্ল্যাট থেকে পাওয়া যায় আধার কার্ড। তাতে ঠিকানা দেওয়া ছিল পূর্ব বর্ধমানের গোপালপুরের বড়সুলের ঠিকানায়। তাঁর ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয় বেশ কিছু পাসপোর্ট।
পর্যটনের ব্যবসা শুরু করার পরিকল্পনা ছিল সান্তার। তার জন্য পার্টনারশিপে গিয়েছিলেন তিনি। যে ব্যক্তির সঙ্গে ব্ব্যবসার কথা ভাবেন শেষ পর্যন্ত তিনিই পার্কস্ট্রিট থানায় এসে শান্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন ভুয়ো পরিচয়পত্র নিয়ে ভারতে বসবাসের। গত সোমবার শান্তাকে গ্রেফতার করেন তদন্তকারীরা। পুলিশ জানিয়েছে, একটি গেস্ট হাউস বানানোর পরিকল্পনাও করেছিল শান্তা। অন্য একজনের নামে ঋণ নিয়েছিল পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতে। এই বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে তদন্তকারীরা।