নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: বাংলাদেশের মাটিতে থাকা স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের সমস্ত ম্যুরাল বা স্মৃতিস্তম্ভ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূস। সেই নির্দেশ মেনে গতকাল রবিবার (১৩ জুলাই) যশোরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি ম্যুরাল বুলডোজার দিয়ে ভেঙে গুঁড়িয়ে দিল জেলা প্রশাসন। ওই ধ্বংসলীলার নেতৃত্ব দেন যশোরের জেলা প্রশাসক আজহারুল ইসলাম। স্বাধীনতার স্থপতির স্মৃতি ম্যুরাল ভেঙে সেখানে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধিদের স্মৃতিস্তম্ভ গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বুলডোজার দিয়ে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ভেঙে দেওয়ার ভিডিও সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হতেই সমালোচনা ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক আজহারুল ইসলাম বলেছেন, ‘ভারতের দালাল ও পাকিস্তান ভাঙার নায়ক শেখ মুজিবের কোনও চিহ্ন বাংলাদেশে রাখা হবে না। উনি হচ্ছেন মুসলিমদের কাছে সবচেয়ে ঘৃণার পাত্র। তাই বঙ্গবন্ধু স্মৃতি ম্যুরাল গুঁড়িয়ে আমরা ৫৪ বছর বাদে পাকিস্তান ভাঙার অপরাধ থেকে মুক্ত হয়েছি।’
সম্প্রতি মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রকের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকেই বাংলাদেশের মাটি থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম-নিশানা মুছে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিলেন তদারকি সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মো্লা মুহাম্মদ ইউনূস। দেশে ছড়িয়ে থাকা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙার জন্য সাতদিনের সময়সীমা দিয়েছিলেন। ওই নির্দেশ মেনে বেশ কয়েকটি জেলায় বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি ম্যুরাল গুঁড়িয়ে দেওয়ার জন্য উদ্যোগ নেন জেলা প্রশাসকরা। তবে এ বিষয়ে অতি সক্রিয়তা দেখিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী জামায়াত ইসলামীর ছাত্র শাখা ইসলামী ছাত্র শিবিরের প্রাক্তন কোষাধ্যক্ষ তথা যশোরের জেলা প্রশাসক আজহারুল ইসলাম।
২০১২ সালের ২০ ডিসেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই ম্যুরালটি উদ্বোধন করেছিলেন। এর নাম ‘বঙ্গবন্ধু স্মৃতি ম্যুরাল’। ১৬ ফুট উচ্চতার এই ম্যুরালটি নির্মাণে মোট ব্যয় হয়েছিল ২৯ লাখ ৯ হাজার ৯৫ টাকা। যশোরে স্থাপিত এই ম্যুরালটিই ছিল দেশের মধ্যে বঙ্গবন্ধুর সব থেকে বড় ম্যুরাল। যশোরের বকুলতলায় থাকা বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি ম্যুরাল ভাঙতে নিজেই বুলডোজার নিয়ে হাজির হন জেলা প্রশাসক আজহারুল। সঙ্গে ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাসার, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, জামায়াতে ইসলামীর জেলা সেক্রেটারি আবু জাফর সিদ্দিকী, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য নুরুজ্জামান।