নিজস্ব প্রতিনিধি : সদ্য উত্তর ভাসল প্রবল বর্ষণে। ফের উত্তরবঙ্গে বৃষ্টি হওয়ার কথা বৃহস্পতিবার থেকে। সেখানে বর্ষার প্রবেশ ইতিমধ্যেই ঘটে গিয়েছে। কিন্তু দক্ষিণবঙ্গে বর্ষার দেখা নেই। বঙ্গের দক্ষিণ ও পশ্চিম অঞ্চল রীতিমতো পুড়ছে, ফলে তীব্র তাপপ্রবাহ চলছে। এর মধ্যেই খুলে গিয়েছিল স্কুল। শিক্ষার্থীদের স্কুলে আসতে প্রাণ বেরিয়ে যাওয়ার জোগাড়। তাই ছোট ছোট পড়ুয়াদের দিকে চেয়ে দু’দিনের জন্য এ রাজ্যের স্কুলগুলিতে ছুটি ঘোষণা করল সরকার।
বৃহস্পতিবার শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে এই তথ্য জানান। পোস্টে বলা হয়েছে, রাজ্যের পার্বত্য জেলাগুলি ছাড়া অন্য সমস্ত জেলার সরকার এবং সরকার সমর্থিত স্কুলগুলিতে চলতি সপ্তাহের শুক্র ও শনিবার ছুটি থাকবে। ওই দু’দিন রাজ্যের সমস্ত প্রাথমিক, উচ্চ প্রাথমিক, মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলে পঠনপাঠন বন্ধ রাখা হবে। শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন দক্ষিণ ও পশ্চিম বঙ্গ জুড়ে তাপপ্রবাহ চলছে। সেই কারণেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এমনিতেই রাজ্যের স্কুলগুলিতে প্রচন্ড গরমের জন্য ছুটি এগিয়ে আনা হয়েছিল। এই বছর গ্রীষ্মকালীন ছুটি শুরু হয়েছিল ৩০ এপ্রিল থেকে। ২ জুন থেকে রাজ্যের স্কুলগুলি খুলেছে। কিন্তু এই ক’দিনেই তীব্র গরমে নাজেহাল দশা হচ্ছিল পড়ুয়াদের। সম্প্রতি বিভিন্ন জেলার প্রাথমিক স্কুলগুলিতে গরমের কারণে সপ্তাহে পাঁচদিন সকাল সাড়ে ছটা থেকে ১১টা পর্যন্ত ক্লাস করানোর সিদ্ধান্ত নেয় বিদ্যালয় সংসদ। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক শুরু হলে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ সিদ্ধান্ত বাতিল করে। কিন্তু সমস্যা দেখা দেয় অন্যখানে।
দুপুরে ক্লাস করতে গিয়ে গত কয়েক দিনে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় প্রাথমিকের পড়ুয়ারা অসুস্থ হয়ে পড়ছিল। ফলে বাধ্য হয়ে পরিস্থিতি বিবেচনা করে দেখার জন্য রাজ্য সরকারের কাছে দরখাস্ত করে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ। তাই সবদিক বজায় রেখে শুক্র ও শনি রাজ্যে স্কুল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
প্রসঙ্গত, আগামী ৩ থেকে ৪ দিন প্রবল গরম ও অস্বস্তি ভোগ করতে হলেও, দক্ষিণবঙ্গবাসীর জন্য সুখবর যে ১২ জুনের পর দক্ষিণবঙ্গে বর্ষার অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। আর ১৫ থেকে ১৭ জুনের মধ্যে বর্ষা মঙ্গলের সূচনা হবে দক্ষিণবঙ্গে।