নিজস্ব প্রতিনিধি, দিঘা: জগন্নাথ দেবের মন্দিরের উদ্বোধনের আগে মহাযজ্ঞ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে কলকাতা থেকে এলেন শোভন চট্টোপাধ্যায়- বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র ও বেহালা পূর্বের প্রাক্তন বিধায়ক শোভন চট্টোপাধ্যায় (Sovan Chatterjee), বৈশাখী বন্দোপাধ্যায়(Baisakhi Banerjee) এবং তার মেয়ে মঙ্গলবার দুপুরে দিঘায় পৌঁছে যান। নির্দিষ্ট জায়গায় জুত রেখে তারা প্রবেশ করেন মহাযজ্ঞস্থলে। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শোভন চট্টোপাধ্যায়কে বলতে শোনা যায় হাইকোর্টের অনুমতি নিয়ে রাজ্যের বিরোধী দলনেতার শুভেন্দু অধিকারী(Suvendu Adhikari) কাঁথিতে যে পাল্টা অনুষ্ঠান করছে তার কোন গুরুত্ব নেই। সবটাই পাবলিসিটি পাওয়ার জন্য করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন শোভন চট্টোপাধ্যায়। দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলনেতা যেভাবে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে(CM Mamata Banerjee) রাজনৈতিক নিশানা করেছেন সেই ইস্যুতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে এসে শোভন চ্যাটার্জী ও বৈশাখী বন্দোপাধ্যায় দাঁড়ালেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
বিরোধী দলনেতা দাবি করেছেন হিন্দুদের বদলে যদি সংখ্যালঘুরা সেখানে প্রবেশ করে তাহলে তিনি সেই ছবি সমাজ মাধ্যমে প্রকাশ করবেন। শোভন চট্টোপাধ্যায় ও বৈশাখী বন্দোপাধ্যায় মহাযজ্ঞ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে ধর্ম বর্ণের অভিযোগ তোলার যোগ্য জবাব দিলেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।এদিকে,চেনা দিঘা বদলে গিয়েছে জগন্নাথ দেবের আগমনে। আর শুধু সময়ের অপেক্ষা। বুধবারই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে উদ্বোধন হবে দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের। তার আগে মঙ্গলবারই সকাল থেকে শুরু মহাযজ্ঞ। সকাল থেকে শুরু করে এই মহাযজ্ঞ চলবে সন্ধ্যে পর্যন্ত। এই যজ্ঞে হাজির হন মু্খ্যমন্ত্রী স্বয়ং। মন্দির উদ্বোধনের আগে বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়ে গিয়েছে রবিবার থেকেই।আম, বেলকাঠ দিয়ে ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে বিশ্ব শান্তি যজ্ঞ। ৩৩ কোটি দেবতাকে আহ্বান জানিয়ে প্রাণ প্রতিষ্ঠা ও দ্বারোদঘাটন হচ্ছে দিঘার জগন্নাথ দেবের মন্দিরের। গোটা কাজটি করা হচ্ছে পুরীর মন্দিরের নিয়ম মেনেই। মন্দির উদ্বোধনের গোটা কাজের দেখাশোনা করছেন পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের অন্যতম প্রধান সেবাইত রাজেশ দ্বৈতাপতি । উপস্থিত আছেন ইসকনের সহ-সভাপতি ও সদ্য নির্মিত জগন্নাথ মন্দিরের ট্রাস্টি বোর্ডের অন্যতম সদস্য রাধারমণ দাস।
জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার দু’ কুইন্টাল ঘি এবং ১০০ কুইন্টাল আম ও বেল কাঠ নিয়ে মহাযজ্ঞের আয়োজন করা হয়েছে। এখানেই শেষ নয়, প্রসাদ হিসেবে তৈরি করা হয়েছে বিভিন্ন রকমের মিষ্টি। তার মধ্যে রয়েছে পেঁড়া, গজা, রসগোল্লা। যজ্ঞকুন্ডে কলস স্থাপন করা হয়েছে। মহাযজ্ঞ সম্পন্ন হলে জগন্নাথ দেবের শয়ন হবে পুষ্পের বিছানায়। তারপর বুধবার থেকে উদ্বোধনের বিভিন্ন অনুষ্ঠান শুরু হবে। ৫৬ ভোগ দেওয়া হবে জগন্নাথদেবকে।
গোটা অনুষ্ঠানের জন্য দিঘাকে মুড়ে ফেলা হয়েছে নিরাপত্তার মোড়কে। যান চলাচলের ওপরে কড়া নিয়ন্ত্রণ রাখা হয়েছে। ইচ্ছে করলেই কেউ অনুষ্ঠানের জায়গায় ঢুকতে পারবেন না। প্রায় সাড়ে তিন হাজার পুলিশ ফোর্সকে মোতায়েন করা হয়েছে দিঘা সৈকত(Digha Sea Beach) সহ জগন্নাথ মন্দিরের চারপাশ ঘিরে। অস্থায়ী পুলিশ কন্ট্রোল রুম তৈরি করা হয়েছে দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের পার্শ্ববর্তী এলাকায়। হেলিপ্যাডের পাশে পর্যটকদের বাস পার্কিং এর ব্যবস্থা করা হয়েছে।এই অনুষ্ঠানের বুধবার সকাল থেকে লাইভ টেলিকাস্ট গোটা রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে রাজ্যের শাসকদলের পক্ষ থেকে।