নিজস্ব প্রতিনিধি,খণ্ডঘোষ: পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষের গৌতানপুর চরমানা, দামোদর নদীর তীরে শিল্পী রঙ্গাজীব রায়, বর্ধমানের শুভেন্দু বিশ্বাস (কলকাতা) এবং সঞ্জয় মালাকার (নবদ্বীপ) মিলে এক ব্যতিক্রমী শিল্পকর্ম সৃষ্টি করেছেন। নদীর বালিয়াড়িতে তাঁরা তৈরি করেছেন একাধিক অক্টোপাসের ভাস্কর্য। শিল্পী রঙ্গাজীব জানিয়েছেন, পুরীতে যে ধরনের বালি ভাস্কর্য তৈরি হয়, সেই শিল্পশৈলীকেই তাঁরা দামোদর নদীর তীরে অনেকটা অনুকরণ করে তুলে ধরেছে।
সাধারণ মানুষের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে গিয়েছে, এই ভাস্কর্যকে মোবাইল বন্দী করার জন্য। প্রচুর মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন দামোদর নদীর(Damodar River) পাড়ে।এই শিল্পকর্মের একটি গভীর তাৎপর্য রয়েছে। শিল্পীরা বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাবে জল সংকট এবং এর ফলস্বরূপ প্রাণীকুলের বিপন্নতার বিষয়টি তুলে ধরতে চেয়েছেন। তাঁদের মতে, যেভাবে জলাশয় শুকিয়ে যাচ্ছে, তাতে মাছ, কুমির এবং অক্টোপাসের মতো জলজ প্রাণীরা অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে। জল সংরক্ষণ এবং প্রাণীকুলকে বাঁচিয়ে রাখার বার্তা দিতেই তাঁরা অক্টোপাসের প্রতিকৃতি তৈরি করেছেন।যা এই প্রাণীটিকে টিকিয়ে রাখার প্রয়োজনীয়তার প্রতীক।
দামোদর নদীর তীরে এই শিল্পকর্ম স্থানীয়দের এবং দর্শকদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি করবে বলে আশা করা যায়। এই শিল্পকলা সমাজকে ভারসাম্য বজায় রাখার বার্তা দেবে। সাধারণ মানুষকে আবহাওয়ার ভয়ঙ্কর রূপ বারবার সতর্ক হতে বার্তা দিচ্ছে। কংক্রিট জঙ্গল কেড়ে নিচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্যতা। পাহাড় থেকে সমতল সর্বত্র জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। জলস্তর ধীরে ধীরে নেমে যাচ্ছে।সবকিছু জেনে বুঝেও মানুষ এখনো সজাগ হচ্ছে না। মানুষের চেতনা বৃদ্ধিতে তাই এই ভাস্কর্যের মাধ্যমে বিশেষ প্রয়াস এই শিল্পীদের।