নিজস্ব প্রতিনিধি: মাদক সংক্রান্ত একটি মামলায় মালায়ালাম অভিনেতা শাইন টম চাকোকে গ্রেফতার করল কলকাতা পুলিশ। শনিবার ১৯ এপ্রিল তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। এই সপ্তাহের শুরুতে মাদক বিরোধী অভিযানের সময় কোচির একটি হোটেল থেকে পলায়নের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে অভিনেতাকে। তার আগে শাইন টমকে প্রায় চার ঘন্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে রিপোর্টে প্রকাশ।
মিডিয়া রিপোর্ট অনুসারে, কোচি সিটি পুলিশ শুক্রবার চাকোকে একটি নোটিশ পাঠিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। যেহেতু অভিনেতা সেই সময় ত্রিচূরে নিজের বাসভবনে উপস্থিত ছিলেন না, তাই পুলিশ আধিকারিকরা অভিনেতার পরিবারের সদস্যদের কাছে নোটিশটি হস্তান্তরিত করেছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে যে মাদক বিরোধী অভিযানের সময় অভিনেতা কোন পরিস্থিতিতে কর্তৃপক্ষকে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন তা তদন্ত করার জন্য জিজ্ঞাসাবাদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই অঞ্চলে মাদক সংক্রান্ত কার্যকলাপের উপর বৃহত্তর অভিযানের অংশ হিসাবে শাইন টমকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তাঁর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য ও মনোরোগ সংক্রান্ত পদার্থ (এনডিপিএস) আইনের ২৭ (মাদকদ্রব্য বা সাইকোট্রপিক পদার্থ সেবন) এবং ২৯ (প্ররোচনা এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র) ধারার অধীনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
১৬ এপ্রিল টম চাকো কোচির একটি হোটেলের তিনতলার জানালা থেকে লাফিয়ে পালিয়ে যান। ঘটনাচক্রে সেই সময় পুলিশ ওই হোটেলে মাদক সংক্রান্ত অভিযান চালাতে এসেছিল।
তিন তলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে অভিনেতা প্রথমে দোতলার ছাদে পড়েন এবং তারপর হোটেলের সুইমিং পুলে ঝাঁপ দেন বলে জানা গিয়েছে। পরে সিসিটিভিতে তাঁকে হোটেলের লবি থেকে পালিয়ে যেতে দেখা যায়। তবে অভিনেতার ঘরে কোনও মাদক পাওয়া যায়নি।
ডিস্ট্রিক্ট অ্যান্টি নারকোটিক স্পেশাল অ্যাকশন ফোর্সের (ডিএএনএসএফ) একটি দলের পরিদর্শনের সময় অভিনেতা পালিয়ে যান। শাইন টম যে পালিয়ে গিয়েছিলেন তা পুলিশকে জানান মালয়ালাম অভিনেত্রী ভিন্সি অ্যালোশিয়াস। তাঁর অভিযোগ ছিল মাদকাসক্ত অবস্থায় একটি সিনেমার শুটিংয়ে অভিনেত্রীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছিলেন অভিনেতা। তিনি মালায়ালাম মুভি আর্টিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (এএমএমএ)-এর অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটি (আইসিসি)-এর কাছে একটি আবেদন মারফত ঘটনাটি বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছিলেন বলেও জানা গিয়েছে।
২০১৫ সালে মাদক রাখার অভিযোগে শাইনকেও গ্রেফতার করা হয়েছিল। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে শাইন এবং অন্যান্য সকল অভিযুক্তকে এর্নাকুলাম অতিরিক্ত দায়রা আদালত রেহাই দেয়।