নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের শীতলতায় যে তিনি গত ৫৪ বছর ধরে মানসিক কষ্ট পেয়েছিলেন তা অবশেষে স্বীকার করে নিলেন তদারকি সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূস। আজ বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) পাকিস্তানের বিদেশ সচিব আমনা বালুচের সঙ্গে বৈঠকে নিজের অব্যক্ত যন্ত্রণার কথা প্রকাশ করে মোল্লা ইউনূস খানিকটা আক্ষেপের সুরে বলেন ‘পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখার পক্ষপাতী ছিলাম প্রথম থেকেই। আমাদের সম্পর্ক হিমশীতল হয়ে যাওয়ায় আমরা দীর্ঘদিন একে অপরকে মিস করছিলাম। আমাদের প্রতিবন্ধকতাগুলো অতিক্রম করতে হবে।’ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যায় জড়িত পাকিস্তানকে ‘মিস’ করার কথা বলে নিজের মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী চেহারাই প্রকট করেছেন মোল্লা ইউনূস।
গত ৫ অগস্ট সেনা বিদ্রোহের মুখে দেশ ছেড়ে চলে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর পরিবর্তে ক্ষমতায় আসীন হয়েছেন পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের পোষ্যভৃত্য হিসাবে পরিচিত মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূস। আর ক্ষমতায় আসীন হয়েই মুক্তিযুদ্ধের সময়ে গণহত্যা চালানো পাকিস্তানিদের সঙ্গে দহরম-মহরম শুরু করে দিয়েছেন তিনি। পাকিস্তানের সঙ্গে ফের বিমান চলাচল চালু সহ একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কীভাবে বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করে উত্তর-পূর্ব ভারতকে অশান্ত করা যায় তার নীল নকশা তৈরিতে বুধবার ঢাকায় এসেছেন পাকিস্তানের বিদেশ সচিব আমনা বালুচ। এদিন সকালে বাংলাদেশ বিদেশ সচিবের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক শেষে সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথিশালায় গিয়ে মোল্লা ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শেখ হাসিনা উচ্ছেদ আন্দোলনের অন্যতম মাস্টারমাইন্ড তথা পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূত সৈয়দ আহমেদ মারুফ।
বৈঠকে মোল্লা ইউনূসকে পাকিস্তানের বিদেশ সচিব বলেন, ‘শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার পরে ভারতকে কোণঠাসা করার সুবর্ণ সুযোগ এসেছে। আমাদের এটি ব্যবহার করা উচিত। আমরা প্রতিবার ‘বাস মিস’ করতে পারি না।’ জবাবে মোল্লা ইউনূস বলেন, ‘দু’দেশের জনগণের মধ্যে বন্ধন বাড়াতে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের উচিত দুই দেশের মধ্যে আরও বেশি যুব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বিনিময় করা। আমাদের সম্পর্ক হিমশীতল হয়ে যাওয়ায় আমরা দীর্ঘদিন একে অপরকে মিস করছিলাম। আমাদের প্রতিবন্ধকতাগুলো অতিক্রম করতে হবে।’ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ পরিষদের ৭৯তম অধিবেশনের ফাঁকে এবং ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ডি-৮ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে কায়রোতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে তার বৈঠকের কথা স্মরণ করে মোল্লা ইউনূস বলেন ‘আমি কৃতজ্ঞ যে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী আমাকে এত ভালবাসা দেখিয়েছেন। ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর যে সুবর্ণ সুযোগ এসেছে তা কাজে লাগাতে হবে।’
অন্যদিকে এদিন পাকিস্তানের বিদেশ সচিবের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে বাংলাদেশের বিদেশ সচিব জসিমউদ্দিন জানান, ‘দেশ স্বাধীনের আগে পাকিস্তানের কাছ থেকে পাওনা ৪ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার ফেরত চাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশি পণ্যের বাজার বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। খুব শিগগিরই বাংলাদেশ-পাকিস্তান ফ্লাইট চালু হবে। বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সম্পর্কে নতুন গতি আনতে বৈঠকে জোর দিয়েছে উভয় দেশ।