আন্তর্জাতিক ডেস্ক: এ যেন থ্রি ইডিয়টস সিনেমার স্ক্রিপ্ট। ঝড় জল বৃষ্টিতে ডুবে থাকা মুম্বাইয়ে দূরে এক হাসপাতাল থেকে ভিডিও কলে নর্মাল ডেলিভারি করানোর পদ্ধতি শেখাচ্ছেন ডক্টর প্রিয়া। সেই পদ্ধতি অবলম্বন করে প্রিয়ার দিদি মোনার সন্তান জন্ম দেওয়ালেন র্যাঞ্চো, রাজু, ফারহান সহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের সকল ছাত্ররা। ভ্যাকুয়াম ক্লিনারকে ভ্যাকুয়াম কাপে পরিণত করে র্যাঞ্চোর হাতে জন্ম নিয়েছিল নবজাতক, যার প্রথম কিকেই ধরা পড়েছিল ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন। আমির খান, শরমন যোশী, মাধবন, করিনা কপূর, বোমান ইরানি, মোনা সিং সহ রাজকুমার হিরানির ছবি ‘থ্রি ইডিয়টস’ সিনেমা ব্লকবাস্টার হিট হয়েছিল। এবার যেন এই সিনেমার ডেলিভারি দৃশ্যের বাস্তবায়ন হল চিনে।
চিন থেকে সাম্প্রতিক সময়ে একটি ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। সেখানকার ১৩ বছরের কিশোর ফুজিয়ান থ্রি ইডিয়টস সিনেমার মতো করে মায়ের প্রসব করিয়েছে। কিশোরের মা দ্বিতীয়বার সন্তান প্রসব করতে চলেছিলেন।
তাঁর যখন প্রসব বেদনা ওঠে তখন বাড়িতে তেরো বছরের ছেলে ছাড়া কেউ ছিল না। স্বামীও কাজের জন্য বাইরে গিয়েছিলেন। ব্যথায় কাতরাতে থাকেন মা। এই দৃশ্য দেখে চুপ করে বসে থাকতে পারেনি সন্তান।
দেরি না করে সঙ্গে সঙ্গে আপৎকালীন পরিষেবা কেন্দ্রে ফোন করে ফুজিয়ান। ফোন করে চিকিৎসক চেন চাওশুনের সঙ্গে কথা বলে সকল নির্দেশ মেনে মাকে সন্তান প্রসবে সাহায্য করে বালক।
৩৭ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা ফুজিয়ানের মায়ের জল ভেঙে গিয়েছিল। ফলে তিনি সামান্য নড়াচড়া করার মতো অবস্থাতেও ছিলেন না। যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিলেন তিনি। এসব দেখে ফুজিয়ান চিকিৎসককে বলে সে মায়ের ডেলিভারি করাবে।
একথা শোনার পরেই চিকিৎসক দ্রুত কিশোরের বাড়ির দিকে রওনা দেন এববং ফোনে ফুজিয়ান ঠিক কী কী করবে মায়ের প্রসব করাতে গেলে তা বলতে থাকেন। চিকিৎসক যেমন যেমন বলেন ফুজিয়ানও ঠিক তেমনটাই করতে থাকে।
এই ভাবে ফুজিয়ানের মা নর্মাল ডেলিভারিতে আর এক সন্তানের জন্ম দেন। তখনও চিকিৎসক এসে পৌঁছাননি। কিন্তু নবজাতকের জন্ম তো হয়ে গিয়েছে, প্লাসেন্টা কাটতে হবে। সেই সময় ফুজিয়ান কোনও দড়ি বা জুতোর ফিতে খুঁজে পায়নি। তখন ওই চিকিৎসক কিশোরকে বলেন মাস্কের দড়ি ব্যবহার করতে। সম্পূর্ণ ডেলিভারি হওয়ার পর চিকিৎসক এসে পৌঁছান এবং মা ও সদ্যজাতকে নিয়ে হাসপাতালে যান।
বর্তমানে মা ও শিশু দুজনেই ভাল আছে। গোটা ঘটনাটি সম্পর্কে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন ওই জরুরি পরিষেবা কেন্দ্রের চিকিৎসক। ঘটনাটি জানাজানি হতেই নেটাগরিকদের একাংশ বালকের সাহসের প্রশংসা করেন। তাঁদের কথায়, ‘‘এমন অবস্থায় যে ভাবে শান্ত থেকে ফুজিয়ান পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে তা সত্যিই প্রশংসাযোগ্য।’’ আবার নেটব্যবহারকারীদের একাংশ এই ঘটনার সমালোচনাও করেছেন।