নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূসের জমানায় ধর্ষকদের স্বর্গরাজ্য হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ। প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শতাধিকের বেশি ধর্ষণের ঘটনা সংবাদমাধ্যমের খবরের শিরোনামে উঠে আসছে। নিরাপত্তায় ভুগছেন অভিভাবক থেকে শুরু করে কর্মজীবী মহিলা ও স্কুল-কলেজের ছাত্রীরা। সমাজমাধ্যমে অনেকেই নিজের ক্ষোভ উগরে লিখছেন, ‘দেশে তো ধর্ষণ রাজ শুরু হয়েছে।’ সমাজমাধ্যমে ও্ই সমালোচনায় আঁতে গা লেগেছে জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহরীর শীর্ষ নেতা তথা ঢাকার পুলিশ কমিশনার শেখ সাজ্জাত আলীর। বাংলাদেশের মানুষ যাতে ধর্ষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হয়ে উঠতে না পারেন তার জন্য শনিবার সংবাদমাধ্যমের জন্য তালিবানি ফতোয়া জারি করেছেন তিনি। সংবাদমাধ্যমে ‘ধর্ষণ’ শব্দ আর ব্যবহার করা যাবে না বলে জানিয়েছেন। শুধু লিখতে হবে ‘নারী নির্যাতন’। সেই সঙ্গে কোনও ছিনতাই-রাহাজানি এবং কুনের ঘটনা বেশি বাড়াবাড়ি করা যাবে না বলেও ঠাণ্ডা গলায় হুমকি দিয়েছেন। ঢাকার পুলিশ কমিশনারের ওই তালিবানি ফতোয়া নিয়ে ইতিমধ্যেই শোরগোল শুরু হয়েছে। অনেক নেটা নাগরিক কটাক্ষ করে বলছেন ‘শেখ সাজ্জাতের মতো ‘ধর্ষকদের পাহারাদার’ ঢাকার পুলিশ কমিশনারের পদে বসলেন?
গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই দেশজুড়ে শুরু হয়েছে ধর্ষণরাজ। আট থেকে আশি, ছোট্ট শিশু থেকে অশীতিপর বৃদ্ধা-কেউই রেহাই পাচ্ছেন না ধর্ষকদের হাত থেকে। প্রকাশ্যেই চলছে মেয়েদের শ্লীলতাহানি। ফলে গোটা দেশেই এক বেনজির আতঙ্কের পরিবেশ গড়ে উঠেছে। ছোট মেযেদের স্কুল-কলেজে পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছেন অভিভাবকরা। পুলিশের বিরুদ্ধে উঠেছে মারাত্মক অভিযোগ। ধর্ষণের অভিযোগ জানাতে গেলে থানা থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। গত বৃহস্পতিবারই না জীবন-মৃত্যুর লড়াইয়ে হেরে না ফেরার দেশে পাড়ি দিয়েছে মাগুরার ছোট্ট শিশু আছিয়া। রমজানের ছুটিতে বেড়াতে গিয়ে দিদির শ্বশুরের পাশবিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছিল একরত্তি শিশুকে। দেশজুড়ে যখন ধর্ষণের বিরুদ্ধে জোরদার আওয়াজ উঠেছে ঠিক তখনই ধর্ষণের মতো নারকীয় ঘটনাকে ইন্ধন জোগাতে আসরে নেমে পড়েছেন ঢাকার পুলিশ কমিশনার শেখ সাজ্জাত আলী। শনিবার রাখঢাক না রেখে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন ‘সংবাদমাধ্যমে যেন আর ধর্ষণ শব্দ ব্যবহার না করা হয়। ধর্ষণের মতো নারকীয় ঘটনাকে ‘নারী নির্যাতন’ বলে লিখতে হবে।’ “ধর্ষকদের পাহারাদার” ঢাকার পুলিশ কমিশনারের কথায়, ‘আমি দুটো শব্দ খুব অপছন্দ করি, এর মধ্যে একটি হল ধর্ষণ। আপনাদের বলছি, এখন থেকে ‘ধর্ষণ’ শব্দ ব্যবহার করবেন না। “নারী নির্যাতন” বা “নিপীড়ন” লিখতে হবে। আমাদের আইনেও নারী ও শিশু নির্যাতন বলা হয়েছে। যে শব্দগুলো শুনতে খারাপ লাগে, সেগুলো আমরা বলব না।’