আন্তজাতিক ডেস্ক: নতুন করে মৃত্যু উপত্যকায় পরিত হয়েছে সিরিয়া। গত বৃহস্পতিবার থেকে ক্ষমতাসীন সরকারের নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে দেশটির ক্ষমতাচ্যুত প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের অনুগামী আলাউইত সম্প্রদায়ের সংঘর্ষে এক হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। শুধু তাই নয়, আসাদপন্থী হওয়ার অপরাধে আলাউইত সম্প্রদায়ের মহিলাদের নগ্ন করিয়ে হাঁটানোর মতো ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটেছে। সবচেয়ে বিস্ময়ের, মানবাধিকার পদদলিত হলেও ইসলামি সন্ত্রাসীদের অন্যতম মদতদাতা তথা রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার সংস্থার প্রধান ফলকার টুর্ক টুঁ শব্দ করেননি।
গত বছরের ডিসেম্বরে ইসলামপন্থী সন্ত্রাসীরা তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে ক্ষমাচ্যূত করে যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার ক্ষমতায় আসীন হয়। তার পর থেকই আসাদপন্থীদের সঙ্গে সরকারপন্থীদের সংঘর্ষ চলছে। আসাদ ক্ষমতায় থাকাকালীন আলাউইত সম্প্রদায় শক্তিশালী হয়ে উঠেছিল। প্রশাসন থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ওই সম্প্রদায়ের সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ পদ হাসিল করার পাশাপাশি প্রভূত ক্ষমতার অধিকারী হয়ে উঠেছিল। ফলে সরকার পরিবর্তনের পরেই হামলার মুখে পড়ে তারা। গত বৃহস্পতিবার থেকে ওই সংঘর্ষ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ব্রিটেন ভিত্তিক সিরীয় পর্যবেক্ষক সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, সরকার সমর্থক নিরাপত্তা বাহিনী লাতাকিয়া এবং পার্শ্ববর্তী তারতুসে থাকা আসাদ অনুরাগীদের নিশ্ছিহ্ন অভিযানে নামে। পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলে আসাদ অনুগামী আলাউইত সম্প্রদায়ের সদস্যরাও।
সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, গত দুদিনে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে আসাদপন্থীদের সংঘর্ষে এক হাজারের বেশি প্রাণহানি ঘটেছে। তারমধ্যে ৭৪৫ জন নিরীহ মানুষ। পাশাপাশি ১৪৮ জন আসাদ অনুরাগী এবং ১২৫ জন নিরাপত্তারক্ষীও প্রাণ হারিয়েছেন। আগে দুটি ভাইরাল ভিডিও যাচাই করে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম নিশ্চিত করেছিল যে, লাতাকিয়ায় গাড়ির পেছনে মৃতদেহ টেনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এক আধিকারিক স্বীকার করেছেন, লাতাকিয়ায় বেশ কয়েকটি সহিংস ঘটনা ঘটেছে। সহিংসতা খুব শিগগিরই বন্ধ করা হবে। শুক্রবার রাতে সিরিয়ার নেতা তথা অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা জানিয়েছেন, ক্ষমতাচ্যুত আসাদের অনুগামীদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়েছেন। বিদ্রোহীদের দমাতে হোমস, লাতাকিয়া ও তারতুস শহরে কারফিউ জারি করার পাশাপাশি বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। নতুন করে সংঘর্ষ ছড়ানোর বিষয়ে কাতারের হামাদ বিন খলিফা বিশ্ববিদ্যালয়ের জননীতি বিভাগের অধ্যাপক সুলতান বারাকাত বলেন, ‘সিরিয়ার উপকূলীয় অঞ্চলে আলাউইতদের বাস। তারা এখন নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতেই সঙ্ঘাতে জড়াচ্ছেন। আসাদের প্রতি সমর্থনের চেয়ে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখাটা এখন তাদের কাছে প্রধান হয়ে দেখা দিয়েছে।’