নিজস্ব প্রতিনিধি, লাহোর: বড় প্রতিযোগিতার আসরের নকআউট পর্বে মুখ থুবড়ে পড়ার সেই ট্র্যাডিশন বা ধারাবাহিকতা বজায় রাখল প্রোটিয়ারা। বুধবার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের কাছে ৫০ রানে ফের একবার খালি হাতে ফিরলেন টেম্বা বাভুমারা। প্রথমে ব্যাট করে রাচিন রবীন্দ্র আর কেন উইলিয়ামসনের জোড়া শতরানের দৌলতে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ৩৬২ রান তুলেছিল নিউজিল্যান্ড। জবাবে ৯ উইকেটে ৩১২ রানেই থমকে যায়। ডেভিড মিলারের অপরাজিত শতরান ব্যর্থ হয়ে গেল। এদিন জয়ের সুবাদে আগামী ৯ মার্চ রবিবার ফাইনালে ভারতের মুখোমুখি হবেন মিচেল স্যান্টনাররা।
জয়ের জন্য রানের পাহাড় তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ের মুখে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। ওপেনার রায়ান রিকেলটন শুরু থেকেই চালিয়ে খেলার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু ভাল শুরু করেও বেশিক্ষণ ক্রিজে থিতু হতে পারেননি। ব্যক্তিগত ১৭ রানে ম্যাট হেনরির বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। এর পরে টেম্বা বাভুমা ও রাশি ফন ডার দুসেন জুটি বেঁধে ধাক্কা সামলে দলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন। এক সময়ে মনে হচ্ছিল ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেবেন দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার। কিন্তু নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার ২৩তম ওভারে বল করতে এসে দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক বাভুমাকে ফিরিয়ে ১০৫ রানের জুটি ভাঙেন। বাভুমা ফিরে যান ৭১ বলে ৫৬ রান করে। তাঁর ইনিংস সাজানো ছিল চারটি চারের সঙ্গে একটি ছক্কায়।
অধিনায়ক সাজঘরে ফেরার পরেই কুম্ভ হয়ে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা চালিয়েছেন দুসেন। কিন্তু স্যান্টনারের বলে তাঁকেও ফিরতে হয়। তিনি করেন ৬৬ বলে ৬৯ রান। দুসেন ফেরার পরেই দক্ষিণ আফ্রিকার মিডল অর্ডারের ব্যাটিংয়ে ধস নামে। হাইনরিখ ক্লাসেন (৩), আইডেন মার্করাম (৩১), উইয়ান মোলডার (৮), মার্কো জানসেন (৩), কেশব মহারাজ (১) দ্রুত ফিরে যান। একসময়ে ২১৮ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে নিশ্চিত হারের মুখে পৌঁছে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। ঠিক তখনই ব্যাট হাতে জ্বলে উঠে দলকে বড়সড় লজ্জার হাত থেকে বাঁচান ডেভিড মিলার। নবম উইকেটে কাগিসো রাবাডাকে সঙ্গে তিনি দলকে ২৫০ রানের গণ্ডি পার করিয়ে দেন। ৪৬তম ওভারে রাবাডাকে ফেরান ম্যাট হেনরি। এর পরে একাই লড়াই চালান মিলার। যদিও দলকে জয় এনে দিতে পারেননি। ৩১২ রানেই থমকে যায় দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস। ৬৭ বলে ১০টি চার ও চারটি বিশাল ছক্কার সাহায্যে ১০০ রান করে অপরাজিত থাকেন মিলার। নিউজিল্যান্ডের হয়ে অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার ৪৩ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন।